বসুন্ধরার করোনা হাসপাতাল

২৬-২৭ এপ্রিল থেকে চিকিৎসা শুরুর প্রত্যাশা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২৪ এএম

করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দেশের বৃহত্তম অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। এসে গেছে রোগীর শয্যা ও আসবাবসহ অধিকাংশ সরঞ্জাম। চিকিৎসক ও নার্সদের বহনযোগ্য কক্ষ ও টয়লেট প্রস্তুত। এখন চলছে বেড, আসবাব ও চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো লেআউট করে জায়গামতো বসানোর কাজ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই করোনা আক্রান্তের চিকিৎসায় হাসপাতালটি প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে গতকাল বুধবার আশা প্রকাশ করেছেন এর নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা।

গতকাল দুপুরে হাসপাতালের নির্মাণকাজ পরিদর্শনে যান বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান। তিনি হাসপাতালটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের কাছ থেকে নির্মাণকাজের অগ্রগতির খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. এম. জসীম উদ্দীন, মার্কেটিং সেক্টরে এইচওডি জেডএম আহমেদ প্রিন্স, হেড অব সাপ্লাই চেইন সেক্টরে মো. আব্দুর রহমান জিপং, এলপি গ্যাস জিএম সেলস জাকারিয়া জালাল প্রমুখ।

কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং সরকারের যতদিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে ততদিন আইসিসিবিকে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে আইসিসিবিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গত ১২ এপ্রিল কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

হাসপাতালের নির্মাণকাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুল আলম গতকাল বলেন, ‘রোগীর বেড বসানোর জন্য ছয়টি ক্লাস্টার আমরা পর্যায়ক্রমে তৈরি করে আসছি। আমাদের ফ্লোরম্যাট বসানোর কাজ চলছে। পাশেই বেডগুলো এনে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাসপাতালটিকে চিকিৎসাসেবা চালুর জন্য প্রস্তুত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে মোট আইসোলেশন বেড হবে ২ হাজার ১৩টি। ট্রেড সেন্টারে ছয় ক্লাস্টারে ১ হাজার ৪৮৮টি বেড বসবে। এছাড়া তিনটি কনভেনশন হলে থাকবে আরও ৫২৫টি বেড। ৪ নম্বর হলে ৭১ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) স্থাপন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত পাইনি। আমরা প্রস্তুত আছি। নির্দেশনা পেলে দ্রুত এটা তৈরি করে ফেলতে পারব।’

মাসুদুল আলম বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ যে, তারা এত সুন্দর একটা জায়গা দিয়েছে। এ ঘরগুলো আমাদের তৈরি করতে হলে এত দ্রুত আমরা হাসপাতাল বানাতে পারতাম না। ঘরগুলো আগে থেকে থাকাতে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। টয়লেটের কাজও পর্যায়ক্রমে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আসবাবপত্র, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সবই সাইটে চলে এসেছে। এখন শুধু এগুলো স্থাপন করতে যতটা সময় লাগে।’

আইসিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. এম. জসীম উদ্দীন গতকাল বলেন, ‘আজকে পর্যন্ত ফ্লোরম্যাট বসানো ও বেড স্থাপনের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ২ নম্বর হলে বেড স্থাপন হয়ে গেছে। মনে হয় না কার্যক্রমগুলো শেষ করতে আর খুব বেশি সময় লাগবে। মূলত বাংলাদেশে সেনাবাহিনী ছাড়া পূর্ণাঙ্গভাবে অস্থায়ী হাসপাতাল করার অভিজ্ঞতা কারোরই ছিল না। স্বাধীনতার পর এত বড় অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরির কাজও বাংলাদেশে হয়নি। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর স্থায়ী হাসপাতাল করেছে, কিন্তু অন্য একটা স্থাপনাকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপ দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাদের নেই। এজন্য তাদেরও অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। বসুন্ধরার পক্ষ থেকেও তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমরা এগিয়ে গিয়ে বারবার শুনছি, কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন আছে কি না। সবকিছু মিলে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে চলে এসেছে। আশা করছি, ২৬-২৭ এপ্রিল থেকে এখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করা যাবে।’

করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে ২ হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিজ্ঞপ্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত