চীনের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা যুক্তরাষ্ট্রে

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৩২ এএম

করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগে চীন সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মামলা হয়েছে। রিপাবলিকান সরকার শাসিত অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিথ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে চীনের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। মামলায় বিশ্বব্যাপী মহামারীর জন্য দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সার্বভৌম বিদেশি সরকারের বিরুদ্ধে করা এ দেওয়ানি মামলায় চীন সরকারের উদ্বিগ্ন হওয়ারও কিছু নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মামলার ব্যাপারে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস কর্র্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মিসৌরিসহ বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীতে মৃত্যু, দুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য চীন দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। মিসৌরির অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্মিট বলেন, চীন সরকার বিশ্বের কাছে মিথ্যা বলেছে। এ ভাইরাসের বিপদ ও সংক্রমণ সম্পর্কে তারা সঠিক তথ্য দেয়নি। ভাইরাসটির বিস্তার থামানোর জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেনি। নিজেদের এই কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের জবাব দিতে হবে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তারের জন্য চীনকে বরাবরই দোষারোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এ মহামারীতে ভয়ানক প্রাণহানির ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাইরাসটির উৎপত্তি ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করছেন। তিনি বলেছেন, ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে চীনের হাত রয়েছে এবং তারা যদি জেনেশুনে এটি করে থাকে বলে প্রমাণ হয়, তবে এর ফলভোগ করতে হবে দেশটিকে।

তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলা কতখানি কার্যকর সেটা স্পষ্ট নয়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক চিমনি কেইটনার জানান, মার্কিন আইনে সাধারণত কিছু ব্যতিক্রম উদাহরণ ছাড়া অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা তেমনটা কার্যকর না। যদি চীনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা হয়, তবেই পেইচিং থেকে উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত