মহামারী রূপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর প্রথম রোগী শনাক্তের পর পেরিয়ে যায় চার মাস। প্রথম আড়াই মাসে রোগটিতে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও মার্চের শেষে বাড়তে থাকে হু হু করে। এর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কোনো দিন রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজারের নিচে নেমেছে আবার কোনো দিন উঠেছে ৯০ হাজারেও। মৃত্যুর সংখ্যায়ও দেখা গেছে একই চিত্র। কোনো দিন ৮ হাজারের বেশি মানুষ মরেছে বিশ্বে আবার কোনো দিন সেই সংখ্যা নেমেছে ৩ হাজারের ঘরে; বিশেষ করে এপ্রিল মাসেই এই ওঠানামাটা বেশি হয়েছে।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে, এপ্রিলের ৩ তারিখে এক দিনে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজারের ওপরে। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে ৬ তারিখে সেই সংখ্যা ৭০ হাজারে নামে। আবার বাড়তে বাড়তে ১০ তারিখে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারের ওপরে ওঠে। এরপর আবার কমতে থাকে রোগী শনাক্তের সংখ্যা। ১৩ তারিখে ফের ৭১ হাজারে নামে এক দিনে রোগী শনাক্তের সংখ্যা। কিন্তু ওই দিনের পর ফের বাড়তে শুরু করে। ১৬ তারিখে আবার ৯০ হাজার অতিক্রম করে। এরপর আবার কমতে শুরু করে ৭০ হাজারের নিচে নেমে ২১ তারিখ থেকে আবার বাড়তে শুরু করে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা। গতকাল সেই সংখ্যা আবার ৮০ হাজার ছাড়ায়।
শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার মতো মৃত্যুর সংখ্যায়ও একই চিত্র দেখা গেছে চলতি মাসের গত দিনগুলোতে। চলতি মাসের ২ তারিখে এক দিনে প্রথমবারের মতো মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজার অতিক্রম করে। তবে এরপর থেকে কমতে শুরু করে ৫ তারিখে তার ৪ হাজারের ঘরে নামে। কিন্তু ৬ তারিখ থেকে বাড়তে শুরু করে ৭ তারিখে মারা যায় সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ। পরদিন মৃত্যুর সংখ্যা কমে ১ হাজার। পরের দিন বেড়ে আবার ৭ হাজার অতিক্রম করে। পরে আবার কমতে কমতে ১২ তারিখে ৫ হাজারের ঘরে নামে। তবে পরের দিন থেকে আবার বাড়তে থাকে। ১৪ তারিখে সেই সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ১৫ তারিখে আবার নেমে আসে ৬ হাজারের ঘরে। ১৭ তারিখে সেই সংখ্যা পৌঁছায় সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজারে। এরপর কমে ১৯ তারিখ আবার নামে ৪ হাজারের ঘরে। এক দিন পরই ২১ তারিখে সেই সংখ্যা আবার ৭ হাজারের ঘর অতিক্রম করে।
এ অবস্থায় কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন মহামারী রূপ নেওয়া রোগটি কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বুধবার বলেছে, রোগীর সঙ্গে লড়াই চালাতে হবে আরও দীর্ঘ দিন। ইউরোপের দেশগুলোর নেতারাও বলছেন, এখনই লকডাউন তুলে দেওয়া উচিত হবে না। কারণ এর চরিত্র দুর্বোদ্ধ হয়ে উঠেছে।
গত বছরের শেষ দিন চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে রোগটি প্রথম ধরা পড়ার পর সেখানে নিয়ন্ত্রণে এলেও ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, বাংলাদেশ সময় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে রোগটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৭। মারা গেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৩ জন। আরোগ্য লাভ করেছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮২৫ জন। আর চিকিৎসাধীন আছে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৯ জন। তাদের মধ্যে ৫৮ হাজার ৩০৪ জনের অবস্থা গুরুতর।
বৃহস্পতিবার রাতের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৮ লাখ ৫২ হাজার ৭১৭ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ হাজার ৩০০।
আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪। মারা গেছে ২২ হাজার ১৫৭ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২৫ হাজার ৮৫ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩২৭ জন। ফ্রান্সে মারা গেছে ২১ হাজার ৩৪০ জন। আর আক্রান্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৭ জন।
ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৭৫। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৫ হাজার ৩৫৪ জন।
ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৭৮৮ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩২।
ইউরোপের আরেক দেশ যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৩৮। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮ জন।
নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭২৯। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৭৭ জনের। বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৯৭। মারা গেছে ৬ হাজার ৪৯০ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭ হাজার ২৬ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৪৮১ জনের।
