করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার অন্যান্য জরুরি সেবার পাশাপাশি ১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম ঢাকাসহ সারা দেশে সীমিত পর্যায়ে খোলা থাকবে। এছাড়া ওষুধ শিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিসহ সব কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ও পরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও অফিস আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণপরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে।’
গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এর আগে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে পারলে রোজার মাসের মধ্যে সীমিত আকারে কিছু গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানা চালু করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেছিলেন, ‘সামনে রোজা, আমরা সবাইকে একেবারে বন্ধ করে রাখতে পারব না। আমাদের কিছু কিছু জায়গা আস্তে আস্তে উন্মুক্ত করতেই হবে।’
ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকার ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল এবং ৩ থেকে ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ১ ও ২ মে’র সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হয়। সাধারণ ছুটিকালীন ঢাকাসহ সব বিভাগ এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ খোলা থাকবে। এগুলো হলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, অন্যসব সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা এ সময়ে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন।
ছুটির আওতার বাইরে যা যা থাকবে : প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি সেবা যেমন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ¦ালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল ইত্যাদি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। এছাড়া কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী এবং গণমাধ্যমে (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক) নিয়োজিত কর্মীরা এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবেন। এছাড়া ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিসহ সব কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে শিল্পকারখানা, কৃষি ও উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ও গণপরিবহন পর্যায়ে উন্মুক্ত করা হবে। ছুটির সময় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। তবে জরুরি কাজে সম্পৃক্ত অফিসগুলো খোলা থাকবে। এছাড়া মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
এবার নিয়ে পাঁচ দফায় ছুটি বাড়ানো হলো। করোনাভাইরাসের কারণে প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। এবার পঞ্চম দফায় ছুটি বাড়ল। এর ফলে করোনার কারণে দেশে টানা ৪১ দিন ছুটি থাকবে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে জানানো হয়, মহামারী করোনাভাইরাস দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪১৪ জন। ফলে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৮৬ জন।
