কেন্দ্র থেকে দলকে ত্রাণ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গত ১৫ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দেন। পরে দলের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধমে সভাপতির এই সিদ্ধান্তের কথা সারা দেশের নেতাকর্মীদের জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ত্রাণ কমিটি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যথাযথ সরকারি নির্দেশনা পালন, সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে সচেতন করবে এবং মানবিক সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াবে।
বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ত্রাণ কমিটি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক জেলা শাখায় জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়। এতে বলা হয়, এই ত্রাণ কমিটি ওয়ার্ড পর্যায়ে দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত করবে এবং ওই তালিকা স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে সঠিক তালিকা প্রণয়নে সহায়তা ও সমন্বয় করবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই নির্দেশ দেওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো ত্রাণ কমিটি জমা পড়েনি জেলায়। এই কমিটি কারা করবে তা নিয়ে দলীয় নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে গন্ডগোল দেখা দিয়েছে। ত্রাণ কমিটি করার এখতিয়ার কার? সেই প্রশ্নে এ কাজ এগোচ্ছে না। ফলে দলীয়ভাবে দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত করার কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোনো জেলা থেকেই কোনো কমিটির নাম এখনো কেন্দ্রে আসেনি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ত্রাণ কমিটি কে করবে তা নিয়ে এক ধরনের জটিলতা কাজ করছে তৃণমূল নেতাদের ভেতরে। একেবারে তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা ও উপজেলা পর্যায় থেকে এ কমিটি করতে বলা হয়েছে। জটিলতা যা সৃষ্টি হয়েছে তা হলো ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা যেমন মেম্বার ও চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা ও উপজেলা চেয়ারম্যানরা চান তারা করবেন এই কমিটি। আর দলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা চান তারা করবেন কমিটি। সব মিলিয়ে কমিটি করার এখতিয়ার কার? তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় ত্রাণ কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, কুমিল্লা থেকে সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, কুমিল্লার আরেক নেতা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও মাদারীপুর থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানও তাদের নিজ এলাকায় এ কমিটি কারা করবেনতা নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলের স্থানীয় নেতাদের ভেতরে বিরোধ দেখা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, ত্রাণ কমিটি করার এখতিয়ার তাদের। কারণ তারা দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
জানতে চাইলে শাজাহান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ত্রাণ কমিটি দলীয় নেতারা না দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা করবে তৃণমূলে এই নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, মাদারীপুরের অনেক এলাকায় ত্রাণ কমিটি নিয়ে এ ধরনের জটিলতা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, অন্যান্য জেলায় এই নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে বলে জেলা ও থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আমাদের কাছে খবর পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, এই জটিলতার কারণে এখনো কেন্দ্রে কোনো ত্রাণ কমিটি জমা পড়েনি। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে এই নিয়ে মোবাইল ফোনে অভিযোগ আসছে। তবে আমরা জানিয়ে দিয়েছি সবাই মিলে সমন্বয় করে ত্রাণ কমিটি করতে হবে। এবং কাজ শুরু করে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা জটিলতা সৃষ্টি হওয়া এলাকাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানিয়ে দিয়েছিএখন কাজ করার সময়। ক্ষমতা বা এখতিয়ার কারএসব চিন্তা করার সময় নয়।
