নগদ প্রণোদনাসহ ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ চায় আটাব

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২০, ০৬:১২ এএম

করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাভেল এজেন্সি, পর্যটনশিল্প রক্ষায় প্রণোদনা প্যাকেজ-১-এর আওতাভুক্ত করে নগদ ২ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনাসহ ১১ হাজার কোটি টাকার ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ চায় অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)।

আটাবের সভাপতি মনছুর আহমেদ কালাম ১৩ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে দেশের ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনশিল্প রক্ষায় নগদ প্রণোদনাসহ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণের দাবি জানান।

আটাব নেতারা বলছেন, সরকার নিবন্ধিত ৩ হাজার ৫০০ ট্রাভেল এজেন্সির  বাণিজ্যিক সংগঠন আটাব তার সদস্যদের কল্যাণ ও দেশের পর্যটন খাত উন্নয়নে কাজ করছে। এর সদস্যদের মাধ্যমে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সম্ভব হয়েছে। সরকারকে বিপুল রাজস্ব দেওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করছে; বিশেষ করে বিদেশ যাত্রীদের ভ্রমণ করের বিপুল অঙ্কের টাকা বিনা মাশুলে সরকারকে আদায় করে দিচ্ছে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, করোনার প্রভাবে জুন পর্যন্ত ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটন খাতে সম্মিলিতভাবে প্রাক্কলিত ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা। এ সময় প্রায় ৪ লাখ লোকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ট্রাভেল এজেন্সি খাতে করোনার প্রভাবে প্রাক্কলিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে আনুমানিক ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের অর্থনীতিতে করোনাভাইরাসের বিরূপ প্রভাব উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই প্যাকেজ বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে দেশে ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনশিল্পের বিপর্যয় রোধে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে আকাশপথে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই এ প্যাকেজের আওতায় প্রণোদনা প্রদানের খাত হিসেবে ‘ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনশিল্প’কে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনশিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অফিস পরিচালনা বাবদ সব খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানভেদে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। ৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রদান ও তাদের ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান বহাল ও অফিস পরিচালনা চলমান রাখতে নগদ ২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্রয়োজন।

ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটনশিল্পে সম্পৃক্ত খাতগুলোয় ব্যবসা কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতে পারে। এ কারণে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম চলমান রাখতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্যাকেজ ১-এর আওতাভুক্ত করে ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে চিঠিতে জানানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত