করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অল্প আয়ের মানুষেরা। বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পিছিয়ে নেই শোবিজের তারকারাও। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। তবে তিনি রাজধানী ঢাকাতে নয়, নিজের এলাকা সিরাজগঞ্জে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। জাহিদ হাসানের অর্থায়নে এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তবে তার এ কার্যক্রমটির মাধ্যমে যারা সহায়তা পাচ্ছেন তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। জাহিদ হাসান বলেন, ‘অসহায় মানুষদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এটি সবাইকে জানাতে আমি আগ্রহী নই। কারণ, এতে যারা সাহায্য নেন তাদের এক ধরনের অবজ্ঞা করা হয়। তাই বিষয়টি আড়ালে থাকাই ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। এছাড়া অভিনয়শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টরস গিল্ডের সহায়তা তহবিলেও অর্থ সহায়তা করেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, এ দুর্যোগ থেকে তিনি যেন আমাদের রক্ষা করেন।’
জাহিদ হাসান গত চার সপ্তাহ ধরে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। দীর্ঘ অবসরে সন্তানদের সময় দিচ্ছেন, স্ত্রী জনপ্রিয় তারকা সাদিয়া ইসলাম মৌয়ের কাজেও সহযোগিতা করছেন। করোনার নেতিবাচক দিক তো সবাই জানেন, কিন্তু এর কিছু ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন তিনি। জাহিদ হাসান বলেন, ‘করোনা আমাদের চরম শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এই শিক্ষা যেন আমরা সবসময় মেনে চলি। নিয়মিত হাত ধোব, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকব, মানবতা দেখাব, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যাব। অহেতুক মানুষকে হয়রানি করব না বা বিপদে ফেলব না। মানুষ মানুষের পাশে থাকবে। তাহলেই ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও পৃথিবীতে নানা মহামারী এসেছে। এবার নিজ চোখে দেখলাম। কেউ বলছে এটা প্রকৃতির বিচার। ধনী-গরিব, সুন্দর-অসুন্দর যত যা আছে, সবাইকে কিন্তু থামিয়ে দিয়েছে করোনা। আমি মনে করি, আমাদের আগামী প্রজন্মকে একটা সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতেই এমনটা হচ্ছে।’
এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত টানা শিডিউল দিয়ে রেখেছিলেন জাহিদ হাসান। কিন্তু করোনার কারণে সব শ্যুটিং স্থগিত। এছাড়া স্ত্রী এবং দুই সন্তান নিয়ে চলতি মাসেই কানাডায় যাওয়ার কথা ছিল। সে পরিকল্পনাও ভেস্তে গেছে। গৃহবন্দি হওয়ার আগে গত ১৮ মার্চ শেষ একটি নাটকের শ্যুটিং করেন জাহিদ হাসান।
