চট্টগ্রামে ভিড়ে ঠাসা বাজার চড়েছে দাম

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৪৪ এএম

রমজান এলেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি পরিমাণে নিত্যপণ্য কেনার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এবার করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৫ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয় সরকার। সে অনুযায়ী এতদিন চট্টগ্রামের বাজারে জনসমাগম ততটা দেখা না গেলেও গতকাল শুক্রবার ছিল ব্যতিক্রম। এদিন নগরীর সবকটি হাট-বাজার ছিল ভিড়ে ঠাসা। সাহরি ও ইফতারসামগ্রী কেনার পাশাপাশি সাপ্তাহিক বাজার-সদাই করতে একসঙ্গে পথে নামে অসংখ্য মানুষ। আর বাড়তি চাহিদা থাকায় দাম বেড়েছে ইফতারসামগ্রী, মুরগি ও সবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের।

গতকাল নগরীর বক্সিরহাট, সদরঘাট, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়ি ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই বেড়েছে। তবে নতুন করে বেড়েছে মাছ, চাল, আদা, চিঁড়া ও সবজির দাম। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকা। যা আগে ছিল ৬০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম ১৫০-১৮০ টাকা থেকে লাফিয়ে ২৫০ টাকায় এসে পৌঁছেছে। কেজিপ্রতি ৪০ টাকার পেঁয়াজ এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন ১১০-১১৫ টাকা, চিনি ৭০ টাকা। রসুন ১৬০-১৭০ টাকা।

বক্সিরহাট বাজারে মুদির দোকানি মো. বাবুল বলেন, আদার দাম আরও বাড়বে। এ ছাড়া ৩৫ টাকার চিঁড়া এখন ৫৫ টাকা। বস্তাপ্রতি প্রায় হাজারের কাছাকাছি দাম বেড়েছে চিঁড়ার। তাই খুচরায় দাম বেশি। তবে বেশিরভাগ পণ্যের দাম কম। চট্টগ্রামের বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মিনিকেট চাল ৫৫ টাকা, স্বর্ণা সিদ্ধ ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ টাকা এবং সাধারণ আতপ চাল কেজিপ্রতি ৪০-৪২ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে দেড় হাজার টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন, রোজা উপলক্ষে নিত্যপণ্যের দাম এভাবে বাড়া অযৌক্তিক। গতকাল বাজারে আসা ক্রেতা মো. মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রমজান চলে এলো। দাম কিন্তু কমেনি উল্টো বেড়েছে। এই সময়ে আয় নেই, কিন্তু বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে সবকিছু। করোনাভাইরাস নিয়ে ভয়ে ভয়ে দিন কাটালেও সেহরি আর ইফতারের খাবার জোগাতে যেভাবেই হোক কেনাকাটা করতে হবে। তাই বাজারে এসেছি।’

নগরীর সবকটি বাজারে মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এতদিন দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রমজান উপলক্ষে সরবরাহ ঘাটতি ও লকডাউনের অজুহাতে প্রতিদিনই মাছের দাম বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লইট্টা মাছ কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ১৪০-১৫০ টাকায়। দেশি কাতলা মাছ ২৪০ টাকা, রুই ২৫০-২৭০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা, পাবদা ৫৫০ টাকা এবং আকারে ছোট এমন পোপা ২২০ টাকা ও মাঝারি ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এসব মাছের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা। এ ছাড়া রূপঁচাদা মাছ কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়। আকার ও মানভেদে চিংড়ি বিক্রি হয়েছে ৬০০-৭০০ টাকায়।

বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে বক্সিরহাটের মাছ বিক্রেতা সুধীর বলেন, ‘লকডাউনে এখন গাড়ি চলে না। যেসব গাড়ি পাওয়া যায় বেশি ভাড়া নিচ্ছে। বাইরে থেকে মাছ আসছে না। তাই পাইকার দাম না ছাড়ায় দাম বেড়েছে।’ তবে দাম যতই বাড়ুক না কেন ক্রেতারা বাজার করছে ব্যাগভর্তি।

গতকাল মানুষের ঢল ছিল নগরীরর প্রতিটি কাঁচাবাজারে। দামও বাড়তি প্রতিটি সবজির। ২৫ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৪০ টাকা, আর ২০ টাকার পটোল ৪০। অন্যদিকে আলুর দাম বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ৩০, গাজর ৪০, তিতকরলা ৬০, বরবটি ৫০ ও শিম ৪০ টাকা।

ফিরিঙ্গীবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. লিয়াকত বলেন, ‘সবজির দাম গত সপ্তাহের শেষ থেকে বেড়েছে। এতদিন এসব সবজি প্রতি কেজি ১০-২০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছিল।’

একই বাজারে ব্রিজঘাট এলাকা থেকে আসা ক্রেতা কিবরিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রেতাও বেড়েছে। অথচ বিক্রেতারা বলছে, বেচাকেনা নেই। কী করব? রোজা চলে আসছে তাই বাইরে বের হতে হয়েছে। কিন্তু এত মানুষ বাজারে জানলে আমি আসতামই না। জানি না কী হয়?’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত