‘পুশইনে’ বাধা

বুড়িমারী সীমান্তে বিএসএফের গুলি, বিজিবিসহ আহত ৫

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২০, ০৫:৪২ এএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) শটগানের গুলিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সদস্যসহ পাঁচ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার বিজিবির সঙ্গে পতাকা বৈঠকে দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বিএসএফ।

বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, ভারত থেকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে প্শুইনের (ঠেলে পাঠানো) চেষ্টা করছিল। এতে বাংলাদেশিরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা গুলি ছোড়ে। শটগানের গুলিতে আহত ব্যক্তিরা হলেন বুড়িমারী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্য খোকন মিয়া এবং ওই এলাকার মো. রশিদুল ইসলাম, ফিরোজা  বেগম, আরেফ হোসেন ও আজিজুল ইসলাম। সন্ধ্যার পর সীমান্তের ওপারে ব্যাপকসংখ্যক বিএসএফ সদস্য মোতায়েন করা হলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থান নেয়।

তারা আরও জানায়, বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা জিরো পয়েন্টের অভিবাসন-চৌকির পাশ দিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় ১৪৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্দা ক্যাম্পের অন্তত ২০ সদস্যের একটি দল। এ সময় বিজিবি সদস্য ও এলাকাবাসী তাদের বাধা দেয়। এরপর বিএসএফের অন্তত ৭০-৮০ জনের একটি দল বাংলাদেশের কমপক্ষে দেড় শ গজ ভেতরে অনুপ্রবেশ করে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে আবারও বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় আবারও বাধা দেয় বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। পরে শটগানের অন্তত আট রাউন্ড গুলি ছুড়তে ছুড়তে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যায় বিএসএফ সদস্যরা।

গতকাল বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এস এম নেওয়াজ নিশাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএসএফ সদস্যদের আচরণে আমরা বুড়িমারীর সাধারণ মানুষ স্তম্ভিত। আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই।’ তিনি আরও বলেন, গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বুড়িমারী জিরো পয়েন্টে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন রংপুর সেক্টর কমান্ডার আলিমুল করিম চৌধুরী ও রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোজাম্মেল হক। আর ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোচবিহার ডিআইজি মাহিন্দ্র কুমার শর্মা, ১৪৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সিও সাহিত্য মুখার্জি, সিও হেডকোয়ার্টার বানাম্বর শাহ প্রমুখ। এতে বিজিবির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দেয় বিএসএফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত