কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল জানালেন ঘরবন্দি সময়ের গল্প। তার সঙ্গে কথা বলেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
ঘরবন্দি সময় কেমন কাটছে?
এই ঘরবন্দি সময়টা আমি পড়াশোনা করেই কাটাচ্ছি। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে নিজের লেখালেখির কাজও করছি। লেখালেখির নতুন ভাবনাগুলো নিয়ে বসতে পারছি। সেগুলোর কাজ করছি।
নতুন ইউটিউব চ্যানেল
আমার ‘পুতুল গান’ নামে একটা ইউটিউব চ্যানেল আগে থেকেই আছে। সেখানে আমার গানগুলো থাকে। এবার আরেকটা ইউটিউব চ্যানেল করতে যাচ্ছি, ‘পুতুল কথন’ নামে। এই চ্যানেলে আমার চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা নিয়ে হাজির হব। আমার চিন্তাভাবনার পাশাপাশি লাইফস্টাইল সংক্রান্ত বিষয়াদিও থাকবে। অবসরে সেই পরিকল্পনাগুলোও করছি।
আমাকে যারা পছন্দ করেন, তারা অনেক সময় আমার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে চান তাদের জন্যই নতুন ইউটিউব চ্যানেলটা খুলছি। এই চ্যানেলে যেকোনো বিষয়ের ভিডিও নিয়ে হাজির হব। দেশের বাইরে গেলে সেখান থেকেও অনেক ভিডিও করে আনি সেগুলোও প্রকাশ করব। নানা সময়ে আমার অর্জিত অভিজ্ঞতার কথাও জানাব। আপাতত ‘পুতুল কথন’ নিয়েই পরিকল্পনা করছি। সব গোছানো শেষ হলে সবাইকে জানিয়ে ইউটিউব চ্যানেলটি উন্মুক্ত করব।
নতুন গান
বেশ কিছু নতুন গানের পরিকল্পনাও করছি। সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছি। মহামারী শেষ হলেই নিজের কাজগুলো নিয়ে হাজির হব।
করোনা-পরবর্তী সময়ের পরিকল্পনা
এটা তো বৈশ্বিক একটা সমস্যা। আমরা শিল্পীরা চাই যাতে শিগগিরই গানে ফিরে যেতে পারি। স্টেজ শোগুলো করতে পারি। কিন্তু আমাদের চাওয়ার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে না। এই মহামারীর পরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভয়াবহ একটা বিপর্যয় নেমে আসবে। বিশেষ করে একটা লম্বা সময় ধরে কনসার্ট আর হবে না। অবশ্যই এটা শিল্পীদের জন্য অনেক বড় সমস্যা। শুধু শিল্পীরা নয়, টেকনিশিয়ানরাও বিপদেও পড়বেন। সবকিছু মিলেই সঙ্গীতাঙ্গনে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এসব বিষয়ে ভাবনার কোনো অবকাশ নেই। সামনে ভাগ্যে যেটা অপেক্ষা করছে, সেটাই হবে। তাই বলে তো আর গান থেকে দূরে থাকা যাবে না। গান নিয়েই নতুন করে পথ চলতে হবে। নতুন নতুন গান তৈরি করে শ্রোতাদের সে গানগুলো উপহার দেওয়ার চেষ্টা করব। আর মঞ্চের পরিবেশনাটা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, বাধা কবে নাগাদ কাটবে, তা জানি না। তবে মনেপ্রাণে চাই- শিগগরিই এই মন্দাটা কেটে যাক।
সামাজিক তৎপরতা
সামাজিক কল্যাণের নামে অনেকে কল্যাণের চেয়ে আত্মপ্রচারটাই বেশি করছে বলে আমার মনে হয়। সামাজিক কল্যাণের নামে আত্মপ্রচার আমি পছন্দ করি না। এটাকে আমি একেবারেই মানবিক কল্যাণ বলেই মনে করি। আর মানবিক কল্যাণ করার জন্য নিজের কাছে সৎ থাকার জন্য আত্মপ্রচারটা বাদ দেওয়া দরকার। কাউকে সহায়তা করা একান্তই আমার নিজস্ব ব্যাপার। আমি চাইনা দানের কথা প্রচার করে দানের মহিমাটা নষ্ট করতে। আমি অনেক আগে থেকেই কিছু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছি। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের সংগঠন। শুধু মহামারীতে নয়, সেই সংগঠনগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম সারা বছর ধরেই করি। এখনো চেষ্টা করছি যথাসম্ভব তাদের সঙ্গে থাকার।
