করোনা রোগীর চিকিৎসায় আগামী ৭ দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত ২ হাজার ডাক্তার ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। ৩৯ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চিকিৎসকদের মধ্য থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী এসব চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। একইভাবে আগের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক নার্স রয়েছেন। পদ না থাকায় যাদের সেই সময় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের মধ্য থেকে নার্সদের নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন ও অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদারের মধ্যে বৈঠক হয়। বৈঠক সম্পর্কে আসাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় এসব ডাক্তার ও নার্স দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার গুরুত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সেখানে ২ হাজার ডাক্তার ও ৬ হাজার নার্স দ্রুত নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব হন্তান্তরসহ কীভাবে তাদের আগামী ৭ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৮ হাজার ডাক্তার নার্স দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি দিতে এ সংক্রান্ত নথি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। সংবিধানের ১৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থায় জনস্বার্থে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করলে, নিয়োগ ও তাদের জন্য পদসৃজন কার্যক্রম পাশাপাশি চলবে।
জানা গেছে, ৩৯ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় ৭/৮ হাজার ডাক্তার আছেন। মেধাক্রম অনুসারে যাদের এখন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে পূর্বের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক নার্স রয়েছেন। যাদের সে সময় পদ না থাকায় নিয়োগ দেওয়া যায়নি। তাদেরও অনেককে এখন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। কারণ একটি দল টানা ৭দিন বা ১৪দিন কাজ করার পর আবার ১৪দিন কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়। এভাবে একজন চিকিৎসক বা নার্সকে লম্বা সময় ডিউটি থেকে দূরে রাখতে হবে। ফলে চিকিৎসক ও নার্স সংকট তৈরি হবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চিকিৎসক ও নার্সরা আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক বেশি। এতে চিকিৎসায় ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী গত বুধবারই দ্রুত চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন। গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে বেশ কিছু চিকিৎসক-নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এজন্য ২ হাজার নতুন ডাক্তার এবং ৬ হাজার নতুন নার্স নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
