জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার জেলায় আরও ছয়জন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে খুলনায় মারা গেছেন আইসোলেশনে থাকা ১৬ মাস বয়সী এক শিশু ও অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধ। সিলেটে মারা গেছেন আইসোলেশনে থাকা ৪৫ বছর বয়সী এক অটোরিকশাচালক। সাতক্ষীরায় মারা গেছেন ঢাকা থেকে অসুস্থ হওয়ার তথ্য গোপন করে হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ বছর বয়সী একজন। ফরিদপুরে মারা গেছেন আইসোলেশনে থাকা ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ৩০ বছর বয়সী এক নারী। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী এ নিয়ে ১৬ দিনে দেশে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ১১২ জনের প্রাণহানি হলো।
খুলনা : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু ফাতেমা মারা যায়। বিকেলে অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। শিশুটির গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের কচুয়ায়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (মেডিসিন) ও করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, তার করোনা উপসর্গ ছিল। শুক্রবার তাকে করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শিশুটির পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, সড়ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বিকেলে তিনি মারা গেছেন। তার শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল। সকালে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। নগরীর আড়ংঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক রশিদুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাত ২টার দিকে স্থানীয়রা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। গতকাল সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে খবর দেয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার কোনো পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
সিলেট : শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন অটোরিকশাচালক গতকাল শনিবার সকালে মারা যান। তার বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলায়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, তার করোনা উপসর্গ ছিল। পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত ২১ এপ্রিল জ¦র ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তাকে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সাতক্ষীরা : সদর হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া হারুন আর রশীদ (৪০) গতকাল ভোরে মারা যান। তিনি কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়ার সাবেদ সরদারের ছেলে। ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী শওকত হোসেন বলেন, পাঁচ দিন আগে ঢাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি আসেন হারুন। পরে এলাকার মানুষ ও প্রশাসনের পদক্ষেপে তাকে স্থানীয় ছোট মিয়ার মাজার শরিফের একটি কক্ষে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সেখানে তার জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলে শুক্রবার গ্রাম্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গতকাল সোয়া ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়েত জানান, হারুনের কাছে বারবার তার সাম্প্রতিক ইতিহাস জানার চেষ্টা করলেও তিনি ও তার আত্মীয়স্বজন মিথ্যা বলেন। মারা যাওয়ার পর তারা বলেছন, তিনি সম্প্রতি ঢাকা থেকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। তথ্য গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সিভিল সার্জন বলেন, ‘তাকে আমরা করোনা ডেডিকেটেড সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে পারতাম। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক-নার্সদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তার নিকটাত্মীয়দের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, হারুনের বাড়িসহ ৬টি বাড়ি এবং ছোট মিয়ার মাজার শরিফে লাল পতাকা টানিয়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
ফরিদপুর : ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে মারা যান কিশোরী শান্তা ইসলাম। তিনি সালথার আটঘর ইউনিয়নের সাড়ুকদিয়া গ্রামের সিরাজউদ্দিন শেখের মেয়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মারা যান রেহানা খাতুন নামে ওই নারী। তিনি চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের শহীদ হোসেনের স্ত্রী। হাসপাতাল পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, ওই দুই নারীর মধ্যে একজনের আগেই পরীক্ষা করা ছিল। তিনি করোনা নেগেটিভ ছিলেন। গতকাল সকালে তাদের দুজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরিচালক বলেন, হাসপাতালের আইসিইউ চালু রয়েছে। ওই দুই রোগীর শ্বাসকষ্ট বেশি ছিল না। তাই রাতে তাদের আইসিইউতে নেওয়া হয়নি। গতকাল সকালে তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যান তারা।
