শুরুটা হয়েছিল মুশফিকুর রহিমকে দিয়ে। নিজের ও দেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাট নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়ার তারকারা এগিয়ে আসেন। করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে নিজেদের প্রিয় স্মারক নিলামে তোলার তালিকায় এখন আছেন দেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, মোহাম্মদ আশরাফুল, ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ। শুটিংয়ে আসিফ হোসেন খান, ফুটবলে প্রয়াত মোনেম মুন্না ও সাবেক অধিনায়ক আলফাজ আহমেদের জার্সি।
নিলামের এই প্রক্রিয়ায় সাকিব আল হাসান প্রথম কাজটি করেছেন। যদিও মুশফিকের পরে আসে তার ঘোষণা। তারপরও ২০১৯ বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করা ব্যাটটা নিলামে তুলে তিনি পেয়েছেন ২০ লাখ টাকা। যে টাকা তার সাকিব আল হাসান ফাউন্ডেশনের তহবিলে যোগ হয়েছে। ওই অর্থ কভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যয় হবে।
২০১৩ সালে গলে ২০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক। সেই ব্যাট নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এর সঙ্গে নিজের আরও কিছু স্মারক নিলামে তুলছেন বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান।
মাশরাফীও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিলামে যোগ দেওয়ার। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক স্মারক যোগ হয়েছে। এর সঙ্গে আছে তার ব্যবহৃত নানা কিট। এর মধ্য থেকে বাছাই করে কিছু নিলামে তুলবেন।
২০০১ সালে কলম্বোতে ১১৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন আশরাফুল। সেটি ছিল তার অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি। বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে। সেই বিশ্ব রেকর্ড এখনো অটুট। আশরাফুলের ধারণা, যেহেতু তার ব্যাটটা বিশ্ব রেকর্ডের তাই সাকিব-মুশফিকের ব্যাটের চেয়ে তারটি আগ্রহ পাবে বেশি এবং নিলামে দামও পাবে বেশি। এই ব্যাটের সঙ্গে আরও কিছু স্মারক নিলামে দিচ্ছেন আশরাফুল।
আশরাফুল, মাশরাফী, সাকিব, মুশফিকদের মতো সিনিয়রদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে উঠে আসছেন তাদের জুনিয়ররা। সৌম্য ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডে ১৫ টেস্টের ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটি হাঁকিয়েছিলেন। সেটি নিলামে তুলছেন। লিটন ২০১৮ এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২১ রানের ইনিংস খেলে হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। যদিও শিরোপা জিতেছিল ভারত। ওটা লিটনের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি ছিল। তো সেই সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাট নিলামে দিচ্ছেন লিটন।
পেসার তাসকিন ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। হ্যাটট্রিকের সেই বল নিলামে তুলছেন তিনি।
সাকিব তার ব্যাট নিলামে তুলেছিলেন বাংলাদেশেরই ‘অকশন ফর অকশন’ একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। মাশরাফী, লিটন, সৌম্য, তাসকিনরাও ওই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন। ওখান থেকেই প্রয়াত কিংবদন্তি মোনেম মুন্না ও খ্যাতিমান সাবেক ফুটবলার আলফাজের জার্সি নিলামে উঠবে।
২০০২ সালে ম্যানচেস্টার কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশকে গর্বিত করেছিলেন শুটার আসিফ। সাবেক এই জাতীয় শুটার ওই গেমসে জেতা স্বর্ণপদক নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন সম্প্রতি।
নিলাম থেকে পাওয়া টাকা সাকিব নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খরচ করবেন। মুশফিকও সেটা করবেন বলে জানা গেছে। আশরাফুলের পুরো প্রক্রিয়াটা এখনো নির্ধারিত নয়। এছাড়া আর যারা নিলামে তুলছেন তাদের স্মারক তারা যে টাকা পাবেন তা তাদের ইচ্ছে মতো কোনো স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনে দেওয়া হতে পারে। কিংবা চাইলে তারা ভিন্নভাবে তা ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবার উদ্দেশ্য এক: করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের মুখে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও স্বস্তির হাসি ফোটানো।
