করোনা পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জট কাটাতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের কন্টেইনার পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি ডিপোগুলোতে। সেই সঙ্গে ক্রমশ বাড়ছে ডেলিভারিও। শনিবার ছুটির দিনেও অফডক আর নিয়মিত ডেলিভারি মিলে বন্দর থেকে ২ হাজার ৭১৪ টিইইউস কন্টেইনার। বন্দর কর্মকর্তারা বলেছেন, জট কাটতে আরও অন্তত এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদনের পর অফডকগুলোতে সব ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার পাঠানো শুরু হয়েছে। শনিবার বন্ধের দিনও অফডকসহ মোট আড়াই হাজার টিইইউসের বেশি ডেলিভারি হয়েছে। ডেলিভারিতে আরও গতি আনতে আজ (রবিবার) স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে সবাই সহযোগিতার আশ^াস দিয়েছে। আশা করছি সপ্তাহখানেক পর জট পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
কভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে শ্লথ হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারির গতি। সাধারণ ছুটির আওতায় এ সময় সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকলেও পুরোদমে চালু রাখা হয় বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। এর ফলে প্রতিদিন জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার নামা স্বাভাবিক থাকলেও ডেলিভারি নেমে আসে এক-চতুর্থাংশে। ফলে প্রতিদিন বন্দর ইয়ার্ডে বাড়তে থাকে কন্টেইনারের পরিমাণ। একপর্যায়ে কন্টেইনারের পরিমাণ বন্দরের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়।
চট্টগ্রাম বন্দরের দুই বৃহৎ টার্মিনাল সিসিটি ও এনসিটি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমদানিকারকরা বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি না নেওয়ার কারণে বন্দরের ইয়ার্ডগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে কন্টেইনার রাখার জায়গা না থাকায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামানো কঠিন হয়ে পড়ে। রেশনিং করে কন্টেইনার নামাতে গিয়ে জাহাজগুলোতে দীর্ঘ সময় জেটিতে বসে থাকতে হচ্ছে। বন্দর থেকে সব ধরনের পণ্য অফডকে পাঠানো শুরু হলেও এখনো তা পুরোদমে চালু হয়নি। তিনি বলেন, জট কাটাতে হলে ডেলিভারির গতি আরও বাড়াতে হবে।
বন্দর সূত্র জানায়, সব ধরনের পণ্যের কন্টেইনার অফডকে পাঠানো শুরু হলেও এখনো খুব বেশি কন্টেইনার সেখানে যায়নি। যে কারণে বন্দর ইয়ার্ড এখনো কন্টেইনারে পূর্ণ। এদিকে যথাসময়ে বন্দর জেটিতে বার্থিং না পেয়ে এখনো ৩৩টি জাহাজ কন্টেইনার নিয়ে অপেক্ষা করছে বহির্নোঙরে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে যেখানে কন্টেইনার ডেলিভারি গড়ে ১ হাজার টিইইউসে নেমে এসেছিল সেখানে গত শনিবার মোট ২ হাজার ৭১৪ টিইইউস কন্টেইনার বন্দর থেকে বের হয়েছে। গতকাল সকালে ৩৩টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ বহির্নোঙরে বার্থিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল। ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস ধারণ ক্ষমতার বিপরীতে গতকাল বন্দরে ৪৮ হাজার ৬৩১ টিইইউস কন্টেইনার ছিল বলে জানান তিনি।
বেসরকারি কন্টেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডার সচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত তিন দিনে বন্দর থেকে মোট ২ হাজার ৯০০ টিইইউস আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনার অফডকে সরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্দর থেকে আমদানিকারকরা ডেলিভারি না নেওয়ার কারণে বন্দরের জট কাটাতে কন্টেইনারগুলো অফডকে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু এখান থেকেও যদি তারা ডেলিভারি না নেয়, তবে অফডকেও জট সৃষ্টি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত ৩৮ ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার সরাসরি অফডকগুলোতে পাঠানো হয়ে থাকে। আমদানিকারকরা সেখান থেকে তাদের ডেলিভারি নেন। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্ট কন্টেইনার জট কাটাতে চট্টগ্রামে অবস্থিত অফডকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের আমদানি পণ্যের কন্টেইনার সাময়িকভাবে আনস্টাফিং, সংরক্ষণ ও অফডক থেকে তা খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অফডকে স্থানান্তরের সময় শতভাগ কন্টেইনার স্ক্যানিং করা, স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা, অফডকে স্থানান্তরিত সব কমার্শিয়াল পণ্য চালান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে যৌথভাবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার শর্ত দিয়েছে এনবিআর।
