খুলনায় চালু হলো রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ পাটকল

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ১২:৪৯ এএম

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর খুলনা অঞ্চলের ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের মধ্যে ৮টি আবার চালু করা হলো। গতকাল রবিবার সকাল ৬টায় চালু করা হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও  স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রমিকরা কাজ করছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে পাটকলগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) খুলনা কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারের খাদ্য বিভাগের বস্তা সরবরাহের জন্য খুলনাঞ্চলের ৮টি পাটকল আংশিকভাবে চালু হয়েছে। গতকাল সকালে খুলনার পাটকলগুলোর গেট দিয়ে শ্রমিকরা মিলে প্রবেশ করে সকাল ৬টা থেকেই উৎপাদন শুরু করেন। উৎপাদন শুরু হওয়া পাটকলগুলো হচ্ছে ক্রিসেন্ট জুটমিল, খালিশপুর জুটমিল, দৌলতপুর জুটমিল, প্লাটিনাম জুবিলি জুটমিল, স্টার জুটমিল, আলিম জুটমিল,  ইস্টার্ন জুটমিল ও জেজেআই জুটমিল। তবে মিলগুলোতে সতর্কভাবে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছেন শ্রমিকরা। বিজেএমসির তথ্য অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির আওতায় পাটকল বন্ধ রাখা হয়। তবে চাল ও বীজের মোড়কে পাটজাত বস্তার সংকট তৈরি হলে সীমিত আকারে পাটকলগুলো চালুর উদ্যোগ নেয় বিজেএমসি। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল প্লাটিনাম জুটমিলের বোডরুমে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের প্রকল্প প্রধানদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের  বৈঠকে পাটকল চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত শনিবার বিকেলে বৈঠক করে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শুধু নিজ নিজ মিল কলোনিতে অবস্থানরত শ্রমিকরাই কাজে যোগ দিতে পারবেন এ মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। পাটকল চালু হলেও করোনার কারণে বিদেশে এখনই পাটপণ্য বিক্রির সুযোগ নেই। তবে খাদ্য অধিদপ্তর ও বিএডিসির চাহিদা অনুযায়ী বস্তা তৈরি হলে দেশের অভ্যন্তরে এগুলো বিক্রি করা যাবে। এতে বকেয়া পরিশোধ করা সহজ হবে।

প্লাটিনাম জুটমিল সিবিএর সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, মিল চালু হয়েছে সকাল থেকে। কিন্তু শ্রমিক খুবই কম নেওয়া হয়েছে। প্রথমে কথা ছিল যারা শ্রমিক কলোনিতে বাস করে তাদের সবাইকে নেওয়া হবে। সেভাবে সবাই কাজে এসেছিলেন কিন্তু পরে ৪০০ জন শ্রমিক থেকে মাত্র ২৭৮ জনকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া অনেকে বাইরে থাকেন তারাও এসে ছিলেন। কিন্তু কাজ না পেয়ে ফিরে গেছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. বণিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, খাদ্য বিভাগ ও বিএডিসির জরুরি বস্তা সরবরাহের জন্য খুলনার কার্পেটিং জুটমিল ছাড়া অন্য সব কটি মিল আংশিকভাবে চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেএমসি। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ সকালে আবার চালু করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত