মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে দেশের নির্মাণ খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। আর এতে সিমেন্ট কোম্পানিগুলোর বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দেশের সিমেন্ট খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের সিমেন্ট বিক্রি বেড়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সার্চ) কোম্পানিটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ শতাংশ কমে গেছে।
মূলত উৎপাদন ও সুদজনিত ব্যয়বৃদ্ধিও হাইডেলবার্গসিমেন্টের নিট মুনাফা কমে যাওয়ার প্রধান কারণ। এ কোম্পানির প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময় কোম্পানির সিমেন্ট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৩৮২ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। চলতি প্রথম প্রান্তিকে বিক্রি থেকে বাড়তি আয় এসেছে সম্প্রতি অধিগ্রহণ করা আমিরাত সিমেন্ট থেকে। এ সময় সাবসিডিয়ারি কোম্পানি আমিরাত সিমেন্ট বাংলাদেশ সিমেন্ট বিক্রি থেকে ২৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা আয় এসেছে।
২০১৯ সালের প্রথম প্রান্তিকে সিমেন্ট বিক্রিতে উৎপাদন ব্যয় ছিল ৮৫ দশমিক ৯ শতাংশ, যা চলতি প্রথম প্রান্তিকে ৮৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় চলতি প্রথম প্রান্তিকে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। এ সময় বিক্রি, বাজারজাতকরণের পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পরিচালন মুনাফা নেমে এসেছে ১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ২৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা।
ব্যাংকঋণ নিয়ে আমিরাত সিমেন্ট অধিগ্রহণ করায় হাইডেলবার্গসিমেন্ট বাংলাদেশের সুদবাবদ বড় অঙ্কের অর্থ বহন করতে হচ্ছে। ২০১৯ সালে কোম্পানির সুদ আয় থাকলেও চলতি প্রথম প্রান্তিকে উল্টো সুদবাবদ ৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এর ফলে করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ টাকায়, যা আগের বছর ছিল ২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি প্রথম প্রান্তিকে হাইডেলবার্গসিমেন্টের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রসঙ্গত, গত দেড় যুগের মধ্যে ২০১৯ সালে হাইডেলবার্গসিমেন্ট লোকসানে পড়ে। এর ফলে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।
