‘লোকদেখানো’ কর্মসূচিতে মধ্যবিত্তরা ত্রাণবঞ্চিত

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৩ এএম

করোনাভাইরাস দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ত্রাণ কার্যক্রমে পরিচালনা করে যাচ্ছেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি, তাদের দলীয় সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতারা পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণ করছেন। পাশাপাশি সরকারি ত্রাণও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে। তবে ত্রাণ বিতরণে কিছু ‘লোক দেখানো’ কর্মকা-ে দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে ত্রাণবঞ্চিত হতে হচ্ছে। একটি শ্রেণিই ঘুরেফিরে ত্রাণ পাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক নেতাদের ত্রাণ বিতরণে ছবি তোলার সংস্কৃতি ও তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা এবং দাতার বাড়ি গিয়ে ত্রাণ আনার ‘নিয়ম’ বাতিল করা হলে ত্রাণ প্রয়োজন- এমন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ত্রাণের প্রয়োজনীয়তা মিটত।

রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিযোগ, ত্রাণ বিতরণে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় ঘরে খাবার না থাকলেও মধ্যবিত্তদের ঘরে রাজনৈতিক ত্রাণ পৌঁছুচ্ছে না। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা বাহারউদ্দীন কাজ করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, নিজের জমানো টাকার সদাইপাতি করে এতদিন চলেছি। এখন টাকাও শেষ, খাবারও শেষ। চলতি মাসের বেতন নিয়ে চিন্তিত বাহারউদ্দিন বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে অনেক ত্রাণের কথা শুনি। আমার ঘরে তো ত্রাণ পৌঁছে না। আমরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির যত ঝামেলা। তিনি বলেন, নেতারা ত্রাণ দেয় আবার ছবি তুলে রাখতে চায়, অথবা ওই নেতারা কাছে গিয়ে ত্রাণ নিয়ে আসা লাগে। এটা তো আমরা পারি না।

একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠানের কর্মী জালাল বলেন, এত এত ত্রাণ আমরা তো পাই না। ত্রাণ আনতে গেলে ছবি তুলতে হয়, নাম লেখাতে হয়। এগুলো তো পারব না। তিনি বলেন, সারা দেশে আমাদের মতো মধ্যবিত্তের সংখ্যা অনেক। যারা বঞ্চিত হচ্ছি ত্রাণ থেকে। অথচ প্রয়োজন আমাদের অনেক বেশি। একটি বায়িং হাউজের কর্মী সোহাগ থাকেন রামপুরায়। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ত্রাণ কার্যক্রম চলছে ঠিকই, কিন্তু সবার ভেতরেই ‘শো-অফ’ করার মানসিকতা রয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আসাই তারা এভাবে ত্রাণ সহায়তা করছেন। কিন্তু আমরা যারা পরিশ্রম করে, চাকরি করে খাই তাদের তো হাত পাতার, চেয়ে এনে খাওয়ার এবং খাবার আনার সময় ছবি তুলে ত্রাণ আনা সম্ভব না। তাই কষ্টটা আমাদেরই বেশি হয়। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখি কিছু নম্বর দিয়ে রাখা হয়। বলা হয়, এই নম্বরে ফোন করুন বাসায় পৌঁছে যাবে আপনার প্রয়োজনীয় ত্রাণ। এটাও প্রচারণা। ফোন করা হলে অনাকাক্সিক্ষত অনেক কথা শুনতে হয়। ফলে ওসব আনার চেয়ে না খেয়ে মরা অনেক সম্মানের। ফারুক নামে উত্তরার এক বাসিন্দা বলেন, ত্রাণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দিয়ে রাখতে পারে সরকার থেকে। যেমন ঢাকায় অন্তত ৪টি স্পট থাকতে পারে। সেখানে সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ রেখে দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পাহারায় থাকবে, যার প্রয়োজন সে গিয়ে নিয়ে যাবে। সারা দেশেই এ ধরনের সুযোগ করে দেওয়া যেতে পারে। অথবা ত্রাণ বিতরণের কোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া যাবে না- এমন আইন করলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য সুবিধা হয় ত্রাণ নিতে ও পেতে। বিশেষ করে ত্রাণ গ্রহীতার ছবি কোথাও প্রকাশ করা হলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত