দেশজুড়ে হাওরে পাকতে শুরু করেছে ধান। কিন্তু করোনাকালে তো ফসল কাটার লোকের বড্ড অভাব। কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়। চিন্তার অন্ত নেই জেলা প্রশাসনেরও। এ রকম একটা অবস্থায় সুনামগঞ্জের দেকার হাওরে ছুটলেন ১৫ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। তিন দিন ধরে স্থানীয় কৃষকদের ধান কাটতে সহায়তা করলেন। এক সময়ের জনপ্রিয় খেলাটি সাংগঠনিক ব্যর্থতার কারণে যখন বিলুপ্ত হওয়ার জোগাড়, তখন মানবসেবায় নিজেদের নিয়োগ করে ফের শিরোনাম হলেন একঝাঁক শাটলার।
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই আসলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা মাথায় ঢোকে জাতীয় শাটলার সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আম্মারের। ভাবনাটা জানান মৌলভীবাজারের শাটলার ইদ্রিস আহমেদ ও সিলেটের জাভেদকে। তিনজন মিলে ফেইসবুকে ‘মানবসেবায় ব্যাডমিন্টন’ নামে একটা গ্রুপ খোলেন মাসখানেক আগে। সারা দেশ থেকেই ব্যাপক সাড়া পেয়ে যান তারা। ব্যাডমিন্টন সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আসতে থাকে সহায়তা। প্রথম ধাপে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন সুনামগঞ্জের সোনাপুরের বেদেপল্লীতে। প্রধান উদ্যোক্তা আম্মার জানান, ‘প্রথমে বেদেপল্লীর প্রায় ১০০ পরিবারের কাছে ১৫ দিনের খাবার পৌঁছে দেই। এরপর যশোর ও মৌলভীবাজারে ২০০ পরিবারকে আমরা সবজিসহ খাবার দিয়েছি। পর্যায়ক্রমে আরও চারটি জেলায় এভাবে সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছে আছে।’
বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের মধ্যে ইফতারি বিতরণের উদ্যোগও নিয়েছেন এইসব ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। তবে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগটা জানাতে গিয়ে নিজেই উৎফুল্ল হয়ে উঠলেন আম্মার, ‘সুনামগঞ্জের দেকার হাওর দেশের অন্যতম বড় ধানী জমি হিসেবে সমাদৃত। এখানে হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধান চাষ হয়। এখন ধান পাকার সময়। এই ধান কেটে তুলতে সারা দেশের মানুষের দু’মাসের চাহিদা মেটানো যায়। কিন্তু ধান কাটার লোকের অভাব। অন্যান্য সময় বিভিন্ন জেলা থেকে এসব হাওরে ধান কাটার লোকে ভরে যেত। কিন্তু এখন তো সব জায়গায় লকডাউন। ওদিকে বন্যা চোখ রাঙাচ্ছে। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢল কয়েকটা নদী হয়ে ভাসিয়ে নেয় দেকার হাওর। কৃষক ও জেলা প্রশাসন চিন্তিত এই ধান কাটা নিয়ে। তাই আমরা ১৫ জন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা হেঁটে দেকার হাওরের মাঝামাঝি গিয়ে তিন দিন ধান কেটেছি। সেই ধান কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। প্রথম রমজান পর্যন্ত তিন দিনের এই কর্মসূচি নিয়েছিলাম আমরা।’
‘মানবসেবায় ব্যাডমিন্টন’ দুস্থ ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের পাশেও দাঁড়িয়েছে। তিনজন সাবেক ও বর্তমান শাটলারের পরিবারকে এক মাসের খাবার কিনে দিয়েছে এই সংগঠন। আর এ তালিকায় এসএ গেমসে খেলা শাটলার রয়েছেন কয়েকজন। আম্মার জানান, ‘আমরা আসলে কোনো কিছু পাওয়ার জন্য এটা করছি না। শুধুই মানবসেবায় ব্রত হয়ে করছি। এই উদ্যোগে জাতীয় দলের প্রায় সব খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের সহায়তা পেয়েছি। বিদেশ থেকেও অনেকে সহায়তা দিচ্ছেন। অনেকেই দেবেন জানিয়েছেন। আমরা কোনো দল বা পক্ষের হয়ে নয়, আমরা গোটা ব্যাডমিন্টন সমাজ এক হয়ে এটা করছি।’
