করোনা মোকাবিলায় এডিবির অর্থায়ন

পাস হচ্ছে ১৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, ০৫:০৫ এএম

করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এজন্য নতুন করে নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তা নেওয়া এ সম্ভাব্য প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা আলাদা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, যা নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। বাকি টাকা দিয়ে করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তাসামগ্রী, ল্যাবরেটরি স্থাপন ও মানোন্নয়ন করা হবে। চলতি বছর থেকে পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। আলোচ্য প্রকল্পে এডিবি ৮৫০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেবে, যা আগামীকাল বুধবার অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এডিবির আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প নেওয়া হবে। এর আগে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ‘কভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপার্ডনেস’ শীর্ষক এ প্রকল্পে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পে ছিল না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম প্রধান (পরিকল্পনা) ডা. আ. এ. মো. মহিউদ্দীন ওসমানী দেশ রূপান্তরকে গতকাল বলেন, এর আগে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের কাছে আরেকটি নতুন প্রকল্প প্রস্তুত রয়েছে। আমরা এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাব। প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বাইরে নগদ প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এটি হবে এককালীন নগদ প্রণোদনা। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। তবে এর নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বুধবার (কাল) এ প্রকল্প নিয়ে পিইসি সভা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া ছাড়াও কেনা হবে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ও কিট, বায়ো-হেজার্ড ব্যাগ, ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন সরঞ্জাম ও করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য উপকরণ। এর মধ্যে এক হাজার ভেন্টিলেটর কেনা হবে। মোবাইল ল্যাবরেটরি সুবিধাবিশিষ্ট কয়েকটি গাড়ি কেনা হবে, যাতে কোথাও করোনা রোগী আক্রান্তের খবর শোনামাত্রই তাকে গাড়িতে তুলে করোনা পরীক্ষা করা যায়। প্রকল্পের আওতায় হ্যান্ড থার্মোমিটার কেনা হবে দুই হাজার। থার্মাল স্ক্যানার কেনা হবে ৪২টি। কার্ডিয়াক মনিটর কেনা হবে ৫০০টি। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৭টি হাসপাতালে আইসোলেশন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট স্থাপন করা হবে। ১৯টি হাসপাতালের ল্যাবরেটরির সক্ষমতা ও মান বৃদ্ধি করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কামাল আজাদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার এ প্রকল্পের ওপর পিইসি সভা ডাকা হয়েছে। ওইদিনই স্বাস্থ্যবিভাগ ওই প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে আসবে। আমরা করোনা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থায় প্রকল্প অনুমোদনের ব্যবস্থা করছি। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প আসলে আমরা দিনের দিন পাস করার ব্যবস্থা করছি। এর আগে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একই ধরনের একটি প্রকল্প পাস করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এই পিইসি সভা শেষ করে পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তর বরাবর পাঠাব, তিনি অনুমোদন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেবেন প্রকল্প প্রস্তাব। প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন দিলেই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, করোনা মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এর আগে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা, যার মধ্যে বিশ্বব্যাংক দেবে ৮৫০ কোটি টাকা। ওই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন মহাখালীর মার্কেট ভবনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দুই হাজার শয্যার একটি হাসপাতাল করা হবে। আপাতত সেখানে ২৫০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টারও করা হবে। এ হাসপাতালে করোনা প্রতিরোধে সম্মুখসারির যোদ্ধা চিকিৎসক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিককর্মীদের যারা কভিড-১৯ আক্রান্ত হবেন, তারা চিকিৎসায় অগ্রাধিকার পাবেন।

এর সূত্র ধরে এডিবিও ৮৫০ কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে, যা হবে নমনীয় ও সহজ শর্তের ঋণ। এ বিষয়ে এডিবির ঢাকা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে করোনা মোকাবিলায় কিছুদিন আগেও বাংলাদেশকে বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে ৩ লাখ ডলার জরুরি অনুদান দেয় সংস্থাটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত