করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে এখন বাড়তি সতর্কতা মেনে চলা হচ্ছে। রাজশাহীতেও ঝুঁকি এড়াতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়াই কাজ করছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে সংক্রমণের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন তারা। সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ ময়লা-আবর্জনা অপসারণের কাজে সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়ার দাবি করলেও মাঠকর্মীদের অভিযোগ, কোনো কিছু না দেওয়ায় খালি হাতে ময়লা তুলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যেতে হচ্ছে। গামবুট না থাকায় স্যান্ডেল পা দিয়েই কাজ করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে বেতনভুক্ত ও দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৩৭৮ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন। এদের সবাইকে মাস্ক, গামবুট ও হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে এসব ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে না।
সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান প্রধান সড়কের পাশেই রাখা হচ্ছে ময়লা। সেখান থেকে গাড়িতে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়ি ছাড়াও সড়ক ও হাসপাতালের বর্জ্য সংগ্রহ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন ভবনের পাশ দিয়ে ময়লা নিয়ে যাচ্ছিলেন দুই কর্মী। মাস্ক ছাড়া তাদের কারও কোনো সুরক্ষাসামগ্রী নেই। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী শহীদ ও সবুর জানান, তারা এখন পর্যন্ত কোনো সুরক্ষাসামগ্রী পাননি। এজন্য বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। আক্ষেপ করে তারা বলেন, ‘আমাদের মতো কর্মচারীদের দিকে কেউ তাকায় না। চেয়েও আমরা কিছুই পাইনি। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে কাজ করছি।’
নগরীর ১২নং ওয়ার্ডের পদ্মা গার্ডেন এলাকায় ময়লা ফেলতে এসেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাকে জ্যাকেট, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস দেওয়া হয়েছে। গ্লাভসগুলো দুদিনেই নষ্ট হয়ে গেছে। এখন খালি হাতেই কাজ করছি। কিছু করার নেই। কখনো কখনো হাত কেটে যায়। অনেক সময় ময়লা থেকে রোগাক্রান্ত হতে হয়। সব জেনেও কাজ করতে হচ্ছে।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমান খাঁন বাদশা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে সুরক্ষা ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের থেকে অন্যরাও সংক্রমিত হতে পারেন। বড় বিষয় করোনা না হলেও এভাবে কাজ করলে ডায়রিয়া, জন্ডিস, কৃমিসহ নানা রোগ হতে পারে। সবার নিরাপত্তার স্বার্থেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মামুন বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিরাপত্তায় আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। সবাইকে গ্লাভস, গামবুট, মাস্ক ও সাবান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেকেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না বলে এসব সামগ্রী পরছেন না। সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব।’
