করোনাভাইরাস শরীরে নিয়েই গত ২৬ ও ২৭ এপ্রিল ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেছেন এক শ্রমিক, যিনি রপ্তানিমুখী ওই কারখানার সুপারভাইজার। গত ২৫ এপ্রিল পিরোজপুর থেকে আসা ওই শ্রমিক ২৭ এপ্রিল করোনা পজিটিভের খবর জানার পর পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। ওইদিন বিকেলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে কোয়ারেন্টাইন করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে তিনি এবং তার সঙ্গে কর্মরত আরও ১৫ শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জামগড়া এলাকাকে লকডাউন ও কারখানাটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, ‘ওই শ্রমিককে ও তার সঙ্গে কর্মরতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক বোর্ড কাজ করছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক আছি। দ্রুতই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি।’
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে দেশ রূপান্তরকে জানানো হয়েছে, করোনা শনাক্তের বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানাটিকে সংক্রমণমুক্ত করা হচ্ছে। মুক্ত হলে কারখানাটি খোলা হবে। যেসব শ্রমিক ওইদিন কারখানায় কাজ করছিল তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কর্মরতদের ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে তাদের কোয়ারেন্টাইন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো তথ্য গোপন না রাখতে সব কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের শ্রমিকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামের ওই ব্যক্তি গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সাধারণ ছুটিতে বাড়ি আসেন। গত ২০ এপ্রিল তার জ্বর এলে ২৩ এপ্রিল পিরোজপুর সদর উপজেলা হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা জমা দেন। ফল হাতে পাওয়ার আগেই গত ২৫ এপ্রিল তিনি ঢাকা চলে যান এবং ২৬ এপ্রিল কাজে যোগ দেন। ২৭ এপ্রিল রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ওই শ্রমিকের শরীরে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেয়। ওইদিন রাতেই তার বাড়ি লকডাউন করতে গেলে উপজেলা প্রশাসন জানতে পারে তিনি ঢাকায় চলে গেছেন। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ও আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়। গতকাল কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সহায়তায় আশুলিয়া থানা পুলিশ ওই সুপারভাইজারের সঙ্গে কর্মরত শ্রমিকসহ সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, ‘সোমবার রাতেই করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করতে যাই। তখন আমরা জানতে পারি ওই শ্রমিক ২৫ তারিখ আশুলিয়ায় কাজ করতে চলে গেছেন। বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ও আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘গত সোমবার আমরা ওই শ্রমিকের তথ্য পাই। করোনা পজিটিভ জানার পর তিনি পালিয়ে ছিলেন। সন্ধ্যায় তাকে ধরতে সক্ষম হই এবং কোয়ারেন্টাইনে রাখি। তিনি যে এলাকায় থাকেন ওই এলাকাকেও লকডাউন করা হয়েছে।’ বর্তমানে আশুলিয়ায় আরও দুজন করোনা শনাক্ত রোগী আছে বলেও জানান তিনি।
