দেশে করোনা শনাক্ত পরীক্ষা আরও বেশি সংখ্যায় ও বেশি স্থানে করার সুপারিশ করেছে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে কমিটির দ্বিতীয় সভায় এই সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন।
কমিটি সুপারিশ করেছে, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত হাসপাতালগুলোতে তিন শিফট ভাগ করে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ করার ব্যবস্থা থাকা দরকার। প্রতি শিফটে সমন্বয়ের জন্য প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য থাকা প্রয়োজন।
কমিটি আরও সুপারিশ করেছে, করোনা শনাক্ত পরীক্ষার ল্যাবরেটরিগুলোতে বায়োসেফটি লেভেল-২ অনুযায়ী পরিচালনা করা উচিত। এই ল্যাবরেটরিতে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকা দরকার। অল্প সময়ের মধ্যে ৫ লক্ষাধিক টেস্টিং কিট সংগ্রহ করা জরুরি। ল্যাবরেটরি যাতে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে তার ব্যবস্থা করতে হবে। টেস্টের কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনে উন্নয়ন সহযোগীদের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
কমিটি সুপারিশ করেছে, বর্তমানে শুধু উপসর্গসহ যেসব রোগী কভিড-১৯ নির্ণয় কেন্দ্রসমূহে আসেন তাদেরই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কমিউনিটিতে যেসব মানুষের উপসর্গ আছে কিন্তু রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসছেন না তাদের খুঁজে বের করে টেস্টের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি রোগের প্রাদুর্ভাবের ভিত্তিতে (বেশি, মাঝারি ও কমসংখ্যক) এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। কন্টাক্ট ট্রেসিং করতে হবে।
কমিটির অন্য সুপারিশগুলো হলো স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলোকে কভিড-১৯-এর রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্বাচন করাই যুক্তিযুক্ত ও সমীচীন। এসব হাসপাতালে বিভিন্ন বিষয়ের যথেষ্ট জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ চিকিৎসক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিয়োজিত ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংখ্যা বাড়িয়ে সেবার মান উন্নত করতে হবে। সেবাকর্মী, চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষা সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করতে হবে। সুরক্ষা সামগ্রীসমূহ যাতে মানসম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকা দরকার।
কমিটি সুপারিশ করে, হাসপাতালে রোগী, চিকিৎসক ও অন্য সবার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এজন্য যথেষ্টসংখ্যক পানি-ফিল্টারের ব্যবস্থা করা দরকার। এসব হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসার জন্য অতিপ্রয়োজনীয় টেস্টের ব্যবস্থা থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশেষ করে বর্তমানে বিশ্বের উন্নত দেশের মতো রোগীর উপসর্গ ও বুকের এক্স-রে করে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
যেসব রোগীর উন্নতি হয়েছে এবং পরপর দুটি কভিড টেস্ট নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত ছাড়া পান না, তাদের জন্য আলাদা আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এটা বাড়িতে বা অন্যত্রও হতে পারে।
যেসব ঘনবসতি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ (যেমন শহরের বস্তি, পোশাককর্মীদের বাসস্থান), সেখানে কোনো ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে এবং তার হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন না হলে, সে যেন আইসোলেশনে থাকতে পারে এমন বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
সামাজিক স্বাস্থ্যসুরক্ষার অংশ হিসেবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা পর্যায়ক্রমে শিথিল করার জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
