গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ঢাকা থেকে ফেরা এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে নির্জন পুকুর পাড়ে কোয়ারেন্টাইনে রাখার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিতে ওই এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল ইতিমধ্যে মাঠে নেমে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা ওই স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছে যে, তিনি নিজের ইচ্ছায় ওই পুকুরের মধ্যে কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাহফজুর রহমান জানিয়েছেন, কোটালীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মোহসিন উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন কোটালীপাড়া থানার পরিদর্শক মো. জাকারিয়া ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী।
শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের মধ্যে তালপাতার ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টাইনে ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে রাখার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে আলাদা থাকার ব্যবস্থা করেন। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
এদিকে ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সে একভাবে বলেছে, আর আজকে ভিন্নভাবে বলছে। তদন্তকারী দল সবকিছু বিবেচনায় এনে তারপর তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকার ইমপালস হাসপাতালে চাকরি করতেন ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী। করোনাভাইরাসের কারণে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছুটি দিয়ে দেয়। ছুটিতে তিনি বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত বাড়ৈর নির্দেশে এলাকাবাসী ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে তার বাড়ির প্রায় ৪০০ মিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে পুকুরের ভেতর তালপাতা দিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে তাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখে।
