করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় গোটা বিশ্ব যখন একদিকে, সুইডেন তখন আরেক দিকে অবস্থান করছে। ইউরোপিয়ান প্রতিবেশীদের মতো সুইডেন দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দেয়নি। উল্টো সুইডেনের রাস্তায় মানুষদের চলতে-ফিরতে, অফিস করতে এমনকি বারে বসে মদ খেতেও দেখা গেছে। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা স্কুলে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। আর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তো খোলাই আছে।
গত ৭ এপ্রিল সুইডেনের সরকার একটি বিল উত্থাপন করে। এ বিলে বাস্তবিক অবস্থা প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে কেয়ার হোমগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এক নির্দেশনায় বলা হয়, ‘দূরত্ব বজায় রাখুন এবং নিজের দায়িত্ব নিন।’
নরডিক দেশগুলোর সংস্কৃতি প্রায় এক। ফিনল্যান্ড দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে স্কুল-কলেজ বন্ধের পাশাপাশি দশজনের অধিক ব্যক্তির জমায়েত হওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির উসিমা অঞ্চলের সব রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে ও মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে। ডেনমার্কও প্রায় একই পদক্ষেপ নিয়েছে। নরওয়ে মার্চের মাঝামাঝি থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি ডেকেয়ার সেন্টার বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ইউরোপের অন্য অনেক দেশের চেয়ে সুইডেনে উল্লেখযোগ্যহারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতি এক লাখ মানুষে ২১ জনের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়। সুইডেনে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার ৬৪০ জন করোনায় আক্রান্ত ও ২ হাজার ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নরওয়ে ও ডেনমার্ক তাদের লকডাউন উঠিয়ে নিতে শুরু করেছে। গত ১০ দিন ধরে দেশ দুটির শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেছে যাচ্ছে। নরডিক অন্য দেশগুলোও ক্রমেই ইতিবাচক দিকে মোড় নিচ্ছে করোনার সংক্রমণ রোধের ক্ষেত্রে। এদিকে ইতালি বা স্পেনের মতো মৃতের সংখ্যা নেই সুইডেনে। কিন্তু মৃতদের ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন ইতালিতে মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক। আর সুইডেনে মৃতদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ।
