মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ৫ মে পর্যন্ত দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন শিল্পকারখানা, অফিস-আদালতের পাশাপাশি দোকানপাট, বিপণিবিতান ও শপিং মল বন্ধ রেখেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। দীর্ঘদিন মার্কেট বন্ধ থাকায় দোকান মালিকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া রমজানের ঈদকে সামনে রেখে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের আগে পাইকারি, ক্ষুদ্র, খুচরা মার্কেট ও দোকান খুলতে চায় দোকান মালিক সমিতি।
দোকান খোলার অনুমতি চেয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে গত সোমবার চিঠি দিয়েছে সমিতি। সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন এবং মহাসচিব জহিরুল হক ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘গত মার্চ মাস থেকে সরকার কর্তৃক ছুটি ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখে সমগ্র বাংলাদেশের সব দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আমরা বন্ধ রেখেছি। তবে বিভিন্ন ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তার সুবিধা ক্ষুদ্র, খুচরা ও পাইকারি দোকানিদের পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
এদিকে দোকানপাট বন্ধ থাকায় রোজগারের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মচারীরা অর্ধাহারে অনাহারে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন। তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এতদিন দোকানপাট বন্ধ থাকায় ৬ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার পুঁজি নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয় তাও বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এক আলোচনা সভায় গার্মেন্টস ও বৃহৎ শিল্পসমূহ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী গত ২৬ এপ্রিল থেকে গার্মেন্টস খুলতে শুরু করেছে। শ্রমিকরাও দলে দলে আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে নরসিংদী জেলা প্রশাসক, জেলা চেম্বার ও বণিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দেশের বৃহত্তর পাইকারি মার্কেট নরসিংদীর বাবুরহাট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায় ক্ষুদ্র, খুচরা ও পাইকারি মার্কেট ও দোকানসমূহ ১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা রেখে আমাদের এসব ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানায় দোকান মালিক সমিতি। তবে গতকাল এক ভিডিও বার্তায় দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন সরকারের কাছে ঈদের আগে দোকান খোলার অনুমতি চেয়েছেন।
