শিথিল লকডাউনের দুদিনে রেকর্ড রোগী শনাক্ত

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১২ এএম

বিভিন্ন সরকারি অফিস ও পোশাক কারখানা খুলে দিয়ে দেশে কার্যত লকডাউন শিথিল করার মধ্যেই পরপর দুদিন রেকর্ডসংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৫৪৯ জন শনাক্তের পর গতকাল ৫৩তম দিনে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। এক দিনের ব্যবধানে শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ১০০ এবং দুদিনেই শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ রোগী। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। নমুনা পরীক্ষা যত বাড়ছে, রোগী শনাক্তও তত বাড়ছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ হাজারের কাছাকাছি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ এবং আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৮ জন, যা আগের দিনের চেয়ে ৫ জন বেশি।

গত রবিবার থেকে কার্যত শিথিল হতে শুরু করে লকডাউন। ওই দিন থেকে সরকারের ৫৪টি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগ ও সংস্থাগুলোর বিভাগীয় ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের সব অফিস চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা, সাভার, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে এক হাজারের মতো তৈরি পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত সোমবার থেকে রাজধানীতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ইফতারি বিক্রির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় নিত্যপণ্যের দোকানগুলো খোলা রাখার সময় আরও ২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এসব কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের সঙ্গে যানবাহনের উপস্থিতিও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হতে শুরু করায় দেশবাসীর মনে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও করোনা রোগী শনাক্ত বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

গতকাল বুধবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০৬ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ এই সময়ে পরীক্ষা করা হয় ৪ হাজার ৯৬৮ জনের। এর মধ্যে ৬৪১ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ১০৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে আরও ৮ জন। সর্বমোট মৃত্যু ১৬৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১১ জন সুস্থ হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫০ জন।

বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় এবং বাকি তিন ভাগ রোগী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেয়। তাদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হচ্ছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া মোট ৩৮ জন সুস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি। এ হিসেবে দেশে মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১৮৮।

মৃত ৮ জনের বিষয়ে তিনি জানান, তাদের ৬ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। ৬ জন ঢাকার এবং ২ জন ঢাকার বাইরের। তাদের বয়স ষাটোর্ধ্ব ৪ জন, ৫১-৬০-এর মধ্যে ২ জন এবং ৩১-৪০-এর মধ্যে ২ জন। এ ছাড়া এ পর্যন্ত মৃতদের মধ্যে ১৩৭ জনই ঢাকা বিভাগের বলে জানান তিনি।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১০৪ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৩৪০ জন। ২৪ ঘণ্টায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫৪৪ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছে মোট ৭৬ হাজার ৩৮২ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় করোনাবিষয়ক কল এসেছে ৭৫ হাজার ১১৫টি। ২৪ ঘণ্টায় পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৫০৩টি, বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৪টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছে ৬৫৭ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত