পারভেজ একা নয় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় আরও ৫ জন

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৫ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে মা ও তিন সন্তান হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বুধবার অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যা এবং ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। এর আগে গত সোমবার পিবিআই গ্রেপ্তার করে পারভেজ (১৭) নামে এক কিশোরকে। পরে পিবিআই প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, মা ও তিন সন্তানকে পারভেজ একাই খুন করেছে।

গত ২৩ এপ্রিল শ্রীপুর উপজেলার আবদার এলাকার মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজলের ডুপ্লেক্স বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন তার স্ত্রী স্মৃতি ফাতেমা (৩৮), তার মেয়ে সাবরিনা সুলতানা ওরফে নুরা (১৬), হাওয়ারিন (১৩) এবং ছেলে ফাদিল (৮)। হত্যার আগে মা ও দুই মেয়েকে ধর্ষণও করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পরদিন কাজলের বাবা আবুল হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

গ্রেপ্তাররা হলো পারভেজের বাবা মো. কাজিম উদ্দিন (৫০), মো. হানিফ (৩২), মো. বশির (২৬), মো. হেলাল (৩০) ও মো. এলাহি মিয়া (৩৫)।

সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, এর আগে গ্রেপ্তার পারভেজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সেখানে সে একাই জড়িত বলে স্বীকার করে। এর পেছনের কারণ উল্লেখ করে সারোয়ার আরও বলেন, এরা অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। পারভেজ এর আগেও এক শিশুকে ধর্ষণের পর খুন করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জামিনে ছাড়া পায় সে। এবারও সে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে জড়ায় বাবাসহ অন্যদের নিয়ে। সে জানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে এবারও ছাড়া পাবে। হয়তো এরকমটা চিন্তা করেই বাবাসহ অন্যদের বাঁচাতে সে নিজের কাঁধে সব দোষ নেয়।

তিনি জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১-এর সদস্যরা। তারা সবাই মাদকাসক্ত। এরা সবাই ভিকটিমদের বাসার কাছে আড্ডা দিত। ঘটনার কিছুদিন আগে তারা জানতে পারে ফাতেমার স্বামী কাজল মালয়েশিয়া থেকে ২০-৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন হুন্ডির মাধ্যমে। তারা সেই টাকা লুটের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৩ এপ্রিল তারা ওই বাসার পেছনে জড়ো হয়। পারভেজ প্রথমে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করে। হানিফ ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে চিলেকোঠায়। তারপর তারা বাসার গেট খুলে দিলে অন্যরা বাসায় ঢোকে। হানিফ ও কাজিম প্রথমে ফাতেমাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পাঠানো টাকা চায়। ফাতেমা কোনো টাকা পাঠানো হয়নি বলে জানান এবং বাসায় থাকা ৩০ হাজার টাকা দেন। এ সময় তারা ফাতেমাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরে পারভেজ ও তার বাবা কাজিমসহ অন্যরা নুরা ও হাওয়ারিনকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। একপর্যায়ে তারা প্রতিবন্ধী শিশুটিকেও হত্যা করে।

এ ঘটনায় আরও চার-পাঁচজন জড়িত থাকতে পারে উল্লেখ করে র‌্যাব কর্মকর্তা সারোয়ার বিন কাশেম আরও জানান, তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত