হলিউডের সেরা ভারতীয় ইরফান খান নেই

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৫:১৭ এএম

ভারতীয় চলচ্চিত্র তারকা ইরফান খান মারা গেছেন। গতকাল বুধবার সকালে মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। অসংখ্য সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে ভক্তদের মনে চিরস্থায়ী আসন পাওয়া এই অভিনেতা কয়েক মাস ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। কিন্তু মাত্র ৫৩ বছর বয়সে স্ত্রী সুতপা শিকদার এবং দুই সন্তান বাবিল ও আয়ান খানকে রেখে চিরবিদায় নিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এই খ্যাতিমান অভিনেতা। বলিউডের অনেকের ক্ষেত্রেই একটি কথা খুব প্রচলিত আছে ‘অমুকের অভিনয় গৎবাঁধা’। মূলধারার সিনেমার বাইরেও অনেকের ক্ষেত্রে বলা হয় এই কথা। তবে ইরফান খান সেই ধারণা ভেঙেছেন বারবার। চরিত্রের প্রয়োজনেই নিজেকে তৈরি করেছেন নিজের মতো। অনেক কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ কীভাবে টিকে থাকতে পারে সেই উপাখ্যান জীবন্ত হয়েছে তার অভিনয়ে।

প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা হয়ে যাওয়ার পরও ইরফান বারবার মনে করিয়ে দিতেন ছোট ছোট শর্টফিল্মে অজানা, অচেনা, লড়াই করতে থাকা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বরাবরই মাটির কাছাকাছি থাকার কথা বলতেন তিনি। তার অসংখ্য সাধারণ দর্শকও সে কথাই বারবার উচ্চারণ করছেন তার জন্য শোকস্তবকে। 

তার পরিবারের বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলা হয়েছে প্রিয়জন, পরিবারের সদস্য যাদেরকে তিনি অত্যন্ত ভালোবাসতেন, তার সব উত্তরাধিকারের মায়া পেছনে ফেলে তিনি স্বর্গে পাড়ি জমিয়েছেন। আমরা সবাই প্রার্থনা করছি তার আত্মা শান্তিতে থাকুক।

গতকালই ইরফানের মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তার ব্যক্তিগত মুখপাত্র এক বিবৃতিতে ‘খান এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন’। এর আগের দিন তিনি জানিয়েছিলেন, ইরফানকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। ওইদিন ইরফানের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা নাকচ করেছিলেন তিনি।

মাত্র চার দিন আগে শনিবার সকালে রাজস্থানের জয়পুর শহরে ৯৫ বছর বয়সে ইরফানের মা সায়ীদা বেগমের মৃত্যু হয়। তবে করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে ইরফান মুম্বাই থেকে জয়পুর যেতে পারেননি, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মৃত মাকে শেষ বিদায় জানান তিনি।

তবে অসুস্থতার জন্যই এ অভিনেতা মায়ের শেষযাত্রায় অংশ নিতে পারেননি বলে ভারতের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।    

২০১৮ সালে এক টুইটার পোস্টে এই অভিনেতা জানান যে, তিনি এনডোক্রাইন টিউমারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। এটি এমন এক ধরনের রোগ যেটি রক্তে হরমোনের সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে। পরে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

ক্যান্সার চিকিৎসা নিয়ে জনসম্মুখে কথা বলার দুই মাস পর তিনি এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখেন। যেখানে তিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার কষ্টের তীব্রতা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে তার ভক্তরা তাকে বাঁধ ভাঙা সমর্থন জানান।

২০১৩ সালে ‘পান পান সিং তোমার’ নামে একটি বায়োপিক সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য ইরফান খান ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। পরিচালক আসিফ কাপাডিয়া নির্মিত ব্রিটিশ-ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘দ্য ওয়ারিয়র’-এ অভিনয়ের জন্য বাফটা পুরস্কার জেতেন ইরফান খান।

১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি জয়পুরের একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ইরফান। ১৯৮৪ সালে তিনি নয়াদিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (এনএসডি) ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়ে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর থেকে চরিত্রের প্রয়োজনে নিজেকে বারবার বদলেছেন। ১৯৯০ সালে তপন সিংহের ‘এক ডক্টর কি মৌত’ ছবিতে যে ইরফান অভিনয় করেছিলেন, সেই ইরফান ‘মকবুল’-এ অভিনয় করেননি। যিনি ‘পান পান সিং তোমার’-এ সংলাপ বলেছিলেন, ‘লাঞ্চ বক্স’-এ তিনি বদলে গিয়েছেন। ‘পিকু’র ইরফান আর ‘হিন্দি মিডিয়াম’-এর ইরফান এক লোক নন। ‘স্ল্যামডগ’-এর ইন্সপেক্টরের ভূমিকা ছোট হলেও অনন্য। এটাই ছিল তার অভিনয়ের ব্যাপ্তি, অভিনয়ের শক্তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত