বিশ্বে ১৬০ কোটি মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে : আইএলও

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৭:১৬ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় প্রায় ১৬০ কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে আছে। যা বিশ্বের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক। কভিড-১৯ নিয়ে গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) তাদের তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে এ কথা বলা হয়। পরে আইএলওর ঢাকা কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের প্রথম দিকে যে পরিমাণ কর্মঘণ্টা কমেছে, তা আগে যা ধারণা করা হচ্ছিল তার চেয়েও অনেক বেশি। গত বছরের শেষ দিকের (প্রথম প্রতিবেদনের সময়) চেয়ে সাড়ে ১০ শতাংশ অবনতি আশঙ্কা করা হচ্ছে। যা প্রায় সাড়ে ৩০ কোটি পূর্ণ কর্মসংস্থানের (সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ ধরে) সমান। আগের প্রতিবেদনের অনুমান ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সাড়ে ১৯ কোটি।

এবারের প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ কর্মঘণ্টা হারাবে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া হারাবে ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কর্মঘণ্টা। মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের প্রায় ১৬০ কোটি শ্রমিকের জীবিকা নির্বাহ ঝুঁকিতে পড়বে। মূলত করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে দেশে দেশে নেওয়া লকডাউন পদক্ষেপের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এ সংকটের প্রথম মাসে বিশ্বব্যাপী অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকের আয় কমেছে ৬০ শতাংশ, যা আফ্রিকার দেশগুলোর ক্ষেত্রে ৮১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় ৭০ শতাংশ।

আইএলওর বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পটিআইনেন বলেন, জনসংখ্যার বিভিন্ন অংশ যেমন নারী, যুবক, বয়স্ক শ্রমিক, অভিবাসী ও চাকরিজীবী ব্যক্তিরা কভিড-১৯ মহামারীর কারণে আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তরুণ জনগোষ্ঠী এমনিতে উচ্চ বেকারত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা জীবিকা হারাতে বসেছেন। বয়স্ক কর্মীরা কাজ হারানোয় বেকারত্বের ঝুঁকিতে আছেন। নারীরা সামাজিক সুরক্ষার অভাবে রয়েছেন। এছাড়া কাজে বহাল কর্মীরাও সুরক্ষিত নন।

এ পরিস্থিতিতে বিকল্প আয়ের উৎস ছাড়া এসব শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলো টিকে থাকার উপায় থাকবে না বলে মনে করছে আইএলও। এ অবস্থায় কর্মীদের সহায়তা দেওয়ার জন্য জরুরি ও নমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আইএলও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত