ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে পুলিশের থাপ্পড় দোকান কর্মচারীর মৃত্যু

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২০, ০৭:২১ এএম

চট্টগ্রামে পুলিশ হেফাজতে গিরিধারি চৌধুরী (৬০) নামে এক দোকান কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর টেরিবাজারের মোহাদ্দেছ মার্কেটের প্রার্থনা বস্ত্রালয়ের কর্মচারী গিরিধারিকে দোকান থেকে ধরে নিয়ে যায় স্থানীয় বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গিরিধারির সঙ্গে দোকানটি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া আরেক কর্মচারী নিখিল দাশের ভাষ্য, ফাঁড়িতে নেওয়ার পর এক পুলিশ কর্মকর্তা চড়-থাপ্পড় মারলে অচেতন হয়ে পড়েন গিরিধারি। পরে তার আর চেতনা ফেরেনি। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করেছে সিএমপি।

প্রার্থনা বস্ত্রালয়ের কর্মচারী নিখিল দাশ সাংবাদিকদের বলেন, মালিকের নির্দেশে হিসাব তৈরি করতে তারা দোকান খুলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ গিয়ে তাদের ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর টহল পুলিশের এএসআই কামরুল ইসলাম গিরিধারিকে চড় মারেন। এ সময় গিরিধারি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মারা যান।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে টেরিবাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। বিকেলে টেরিবাজারের মোহাদ্দেছ মার্কেটের প্রার্থনা বস্ত্রালয় খুলে সেখান থেকে কয়েকজন কর্মচারী বস্তায় করে কাপড় বের করছিলেন। রিকশায় তোলার সময় ওই মার্কেটে সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা লোকজন তাদের জিজ্ঞেস করে। পরে সেখানে টহল পুলিশ আসে। পুলিশ চার বস্তা কাপড়সহ রিকশা এবং দুজন কর্মচারীকে নিয়ে ফাঁড়িতে যায়। এরপর শুনেছি সেখানে এক কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মেডিকেলে নেওয়ার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেছে।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘দোকানের ভেতর থেকে তিন কর্মচারী মালামাল বের করছিলেন। টেরিবাজারের স্থানীয় লোকজনই চুরি ভেবে পুলিশকে খবর দিয়ে আনে। এরপর কর্মচারীদের পুলিশ ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এবং মালিককে ফোন করার জন্য কর্মচারী গিরিধারি চৌধুরীকে বলেন। সেখানে গিরিধারি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘কেউ কিন্তু পুলিশ মারধর করেছে এমন অভিযোগ করেনি। তারপরও যেহেতু পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে, এর জন্য আমরা বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এডিসির নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি করেছি। এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছি।’

তিনি আরও জানান, দোকান কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুল ইসলাম ও দুই কনস্টেবলকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত