নমুনা সংগ্রহে জটিলতা

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ০৫:১৩ এএম

দেশে করোনা রোগী শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা চলছে। এতদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ এবং সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখলেও এখন অপারগতা প্রকাশ করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে তারা আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিগুলোতে পাঠাবে। আইইডিসিআর কেবল গবেষণার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করবে এবং সেগুলোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো নমুনা পরীক্ষা করবে। একই সঙ্গে সারা দেশে নমুনার পরীক্ষার মান তদারকি করবে।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তারা নমুনা সংগ্রহ করবে ঠিকই, তবে সবার না। হটলাইনের কল যাচাই-বাছাই করে যাদের সন্দেহ হবে, কেবল তাদেরই নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হবে। অন্য কেউ চাইলে বিভিন্ন সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করাতে পারবে।  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে করোনা পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ নিয়ে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হলো। কারণ এতদিন নমুনা সংগ্রহের কাজটি আইইডিসিআর করেছে। এখন নতুন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে দেওয়ায় ঠিক কীভাবে নমুনা সংগ্রহসহ পুরো কাজটি সমন্বয় করবে, সে ব্যাপারে গত এক সপ্তাহেও কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা। অনেকে চেষ্টা করেও করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করাতে পারছেন না। যারা পরীক্ষা করিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ ফল জানতে পারছেন না। কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে সংগ্রহ করা নমুনার স্তূপ বড় হচ্ছে। আইইডিসিআর ও অধিদপ্তরের এমন টানাপড়েনের ফলে এ সময় করোনা পরীক্ষায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে।

গত এক সপ্তাহে অসংখ্য মানুষ ফোন করে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা পরীক্ষা নিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও নমুনা সংগ্রহের কথা বলে লাপাত্তা হয়ে  যান। ফোন ধরার তিন-চার দিন পর এসে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং তারও চার-পাঁচ দিন পর সে নমুনা ফল জানান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাত দিনেও নমুনা সংগ্রহ না করায় সন্দেহ নিয়ে অনেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার জন্য ধরনা দিচ্ছেন। এমনকি সকালে করোনা নেগেটিভ বললেও সন্ধ্যায় পুনরায় ফোন করে ‘পজিটিভ’ জানানো হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও একই রকম চিত্র। সেখানেও করোনা পরীক্ষা নিয়ে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। বিশেষ করে ভুল ফল ভীষণ বিপদে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়া ও যশোরে করোনা সন্দেহে ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং এদের মধ্যে ৩৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রিপোর্টে কিছু ভুল পাওয়ায় ফের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হলে দেখা যায়, ৩০ জনেরই করোনা নেগেটিভ। এমন ঘটনায় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এমন পরিস্থিতি কেন হচ্ছে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের ওপর চাপ পড়ে যাচ্ছে। তাই আগামীকাল (আজ রবিবার) থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দায়িত্ব নিচ্ছে। এখন থেকে অধিদপ্তর বাসায় থেকে নমুনা সংগ্রহ করবে। আমরা মূলত হোম সার্ভিস দিতাম। নমুনা সংগ্রহ করতাম। এখন সেটা অধিদপ্তর করবে।

যদি কেউ নমুনা সংগ্রহের জন্য ফোন করে, তা হলে নিকটস্থ পাড়ায় অধিদপ্তরের কোনো বুথ থাকতে হবে। সেই বুথে গিয়ে স্যাম্পল দিতে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হলে, ওই হাসপাতাল দায়িত্ব নেবে পরীক্ষার। অধিদপ্তরের অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা স্যাম্পল সংগ্রহ ও পরীক্ষার প্রধান।

গত এক সপ্তাহ ধরে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ফল পেতে যে দেরির কথা বলা হচ্ছে, সেটার কারণ আইইডিসিআরের পদ্ধতিতে জটিলতা। আইইডিসিআর দুই ধরনের কাজ করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে ও সেগুলো বিভিন্ন ল্যাবে পাঠায়। পরে সংশ্লিষ্টদের ফল জানিয়ে দেয়। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে, রাজধানী ও এর বাইরে বিভিন্ন ল্যাবরেটরির মান নিয়ন্ত্রণ তদারকি করে। সেখান থেকে বেশকিছু নেগেটিভ ও পজিটিভ রেজাল্ট পাঠানো হয়। সেগুলো আবার পরীক্ষা করতে হয়। আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেফারেন্স ল্যাবরেটরি। এখন থেকে কেবল যে সব পরীক্ষার ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দেবে, সেগুলোই পরীক্ষা করবে। আর যদি জটিল রোগী হয়, তা হলে আমাদের সার্ভিলেন্স কাজের জন্য তার নমুনা পরীক্ষা করবে। অর্থাৎ এখন থেকে আইইডিসিআর গবেষণার কাজের জন্য নমুনা পরীক্ষা করবে। রোগের প্রবাহ বোঝার জন্য সার্ভিলেন্সের জন্য যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু পরীক্ষা করবে। বাকিটা করবে অধিদপ্তর।

এই কর্মকর্তা পরিষ্কার করে বলেন, আইইডিসিআর প্যানডেমিক সার্ভিলেন্সের প্রয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের স্যাম্পল সংগ্রহ অব্যাহত রাখবে। আর রোগী শনাক্তের জন্য স্যাম্পল সংগ্রহ, সেটা হাসপাতালে যারা ভর্তি আছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ করবে, আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটা ব্যবস্থা করেছে, তারা তাদের মতো করবে।

আইইডিসিআরের কাজটা এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে করবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করবে। আগে মানুষ যেভাবে হটলাইনে ফোন করত, এখনো সেভাবেই ফোন করবে। তবে সবার নমুনা সংগহ করা হবে না। যাদের সন্দেহ হবে, কেবল তাদেরই নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে নমুনা পরীক্ষার জন্য মানুষকে খুব দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, এটার সমাধান কী জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যে কারও সন্দেহ হলে পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে একটি ও রাজধানীতে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা চালু হয়েছে। তিতুমীর কলেজে ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের জন্য কিছু বুথ খোলা হয়েছে। সেখানেও নমুনা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া শিগগির আরও কিছু জায়গায় নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে এখন ৩১টি প্রতিষ্ঠানে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১৫টি এবং বাকিগুলো ঢাকার বাইরে। এসব প্রতিষ্ঠানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬১৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, পরীক্ষা হয়েছে ৫৮২৭টি নমুনার। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫২ জন এবং মারা গেছেন পাঁচজন।

এতগুলো পরীক্ষাকেন্দ্র থাকার পরও কেন মানুষ পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন না জানতে চাইলে অধিদপ্তর ও আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরীক্ষায় সমন্বয়ের ভীষণ অভাব। আইইডিসিআর ও অধিদপ্তর যে যার মতো করে কাজ করছে। কারও মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। ঢাকায় যে ১৫টি ল্যাবের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে মাত্র তিনটি ল্যাবে সাধারণ মানুষ পরীক্ষা করতে পারছে। এই তিনটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে উপসর্গ স্পষ্ট হলে পরীক্ষা করা যায়। বাকি ল্যাবে আইইডিসিআর নমুনা পাঠায়। সেখানে বাইরের কেউ চাইলেও নমুনা পরীক্ষা করাতে পারবেন না।

এই কর্মকর্তারা আরও জানান, আইইডিসিআরে প্রায় তিন হাজার নমুনা আটকে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ল্যাব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় তার সংস্পর্শে থাকা অন্যদেরও কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে নমুনা পরীক্ষা আটকে আছে। এর মধ্যে ভিআইপিদের চাপ বেশি। তাদের জন্য আলাদাভাবে দ্রুত পরীক্ষা করতে হয় ও রেজাল্ট দিতে হয়। এসব কাজের জন্য যে ধরনের লোকবল প্রয়োজন, তা আইইডিসিআরের নেই। এই ভিআইপিদের সামলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় বিলম্ব হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে, করোনা পরীক্ষার জন্য সরকারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালকে নির্দিষ্ট করা হলেও সেখানে আপাতত পরীক্ষা বন্ধ বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের যারা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত, তারা সবাই আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সুস্থ হয়ে ফিরে এলেই আমরা আবার শুরু করব।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, অবশ্যই পরীক্ষার সুযোগ বাড়ানো উচিত। আইইডিসিআরের হটলাইনে পাওয়া যায় না। যেসব সেন্টারে পরীক্ষা হচ্ছে, সেখানেও প্রচন্ড ভিড়। সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা উচিত। সেখানে শুধু পরীক্ষা করবে, এটা ঠিক না। নতুন সেন্টার খোলা উচিত।

এদিকে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে কুষ্টিয়া ও যশোরে করোনা সন্দেহে ৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ৩৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে রিপোর্টে কিছু ভুল পাওয়ায় ফের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হলে দেখা যায়, ৩০ জনেরই করোনা নেগেটিভ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন কর্মকান্ডে তোলপাড় শুরু হয় চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা ও বিতর্ক। অনেকে এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি তুলছেন।

আমাদের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর গ্রামের একজন কিডনি রোগী গত ৬ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকাতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হন। বিষয়টি জানার পর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের ১১জন চিকিৎসক নার্সসহ ২১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে গত ২২ এপ্রিল যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়। পরদিন ২৩ এপ্রিল সেই ২১ জনের মধ্যে ৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

একইভাবে গত ২৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ ৫১ জনের নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিকেলের পিসিআর ল্যাব পাঠান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্র্তৃপক্ষ ২৮ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গার দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ চিকিৎসকসহ ২৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এক দিনে এতসংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ার পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশপাশের এলাকাও লকডাউন করা হয়।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জেলার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সব বিষয় খতিয়ে দেখতে আইইডিসিআর থেকে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল এসেছে। তারা বিষয়গুলো দেখভাল করছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ল্যাবের অনেক ধরনের বিষয় থাকে। অনেক সময় মেশিন ভুল তথ্য দিতে পারে। টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং এটা ইচ্ছাকৃত ভুল বা অভিজ্ঞতার অভাব নয়। কারণ যশোর ল্যাবের দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনি অভিজ্ঞ একজন অধ্যাপক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত