দেশে টানা পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন ৫০০রও বেশি করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার করোনা শনাক্তের ৫৬তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৫২ জন করোনা রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে ৫৬ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের পাঁচ দিন ছিল গত পাঁচ দিন। এ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৪১ রোগী শনাক্ত হয় গত বুধবার, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৭১ জন শনাক্ত হয় গত শুক্রবার, তৃতীয় সর্বোচ্চ ৫৬৪ জন শনাক্ত হয় গত বৃহস্পতিবার, চতুর্থ সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে গতকাল এবং পঞ্চম সর্বোচ্চ ৫৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত মঙ্গলবার। এ পাঁচ দিনে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮৭৭ জন, যা সর্বমোট রোগীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৭৬ হাজার ৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৮ হাজার ৭৯০ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।
গতকাল অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৯৩ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৮২৭ জনের। এর মধ্যে ৫৫২ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন মোট ৮ হাজার ৭৯০ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৫ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭৫ জন। একই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জন সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১৭৭ জন।
বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্তি মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ মৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী। তারা সবাই ঢাকার অধিবাসী।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৬৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ৬৩২ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৪৩ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৯ হাজার ৯৪ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিষয়ক কল এসেছে ৭২ হাজার ৩১৫টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন মোট ৪৬১ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ রোগী ঢাকা বিভাগে, সর্বনিম্ন রাজশাহীতে : এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৮৩ শতাংশেরও বেশি রোগী ঢাকা বিভাগের। আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে রোগী আছে ৮৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরীতেই আছে ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ রোগী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী আছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এরপর ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ১ দশমিক ৯১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন রোগী আছে রাজশাহী বিভাগে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
