করোনাভাইরাস সংকটে সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও একটি। অর্থ-বাণিজ্যের সাময়িকী ইকোনমিস্টের করা এ সংক্রান্ত তালিকায় সবচেয়ে কম ঝুঁকির ৯ নম্বর দেশ হিসেবে আছে বাংলাদেশ। সাময়িকীটির হিসাব বলছে, করোনা সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চীন ও ভারতের চেয়ে কম চাপ পড়বে।
অর্থনৈতিক ভিত্তি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিচারে উদীয়মান অর্থনীতির ৬৬টি দেশের এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কেবল বাংলাদেশ শীর্ষ দশে এসেছে। করোনাভাইরাসের মহামারীর অভিঘাতে কোন দেশ অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে এবং কোন দেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় আছে, তা বুঝতে এই তালিকা করেছে সাময়িকীটি।
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্সের বরাত দিয়ে ইকোনমিস্ট জানাচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর বন্ড ও শেয়ারবাজার থেকে গত চার মাসে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তুলে নিয়েছে। তুলে নেওয়া অর্থের এই অঙ্ক ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার সময়ের তিনগুণ।
ইকোনমিস্টের মতে, করোনা উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে অন্তত তিনভাবে। লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরে থাকতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে। টান পড়েছে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহেও।
সংকট মোকাবিলা করতে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অন্তত আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে বলে ইকোনমিস্টের ধারণা।
উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর শক্তি আর দুর্বলতার জায়গা বিচার করতে গিয়ে চারটি সূচক ইকোনমিস্ট বিবেচনায় নিয়েছে। এগুলো হলো জিডিপির শতাংশ হিসেবে সরকারের ঋণ, বিদেশি ঋণ, ঋণের সুদ এবং রিজার্ভ।
করোনাভাইরাস সংকটে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থায় থাকা শীর্ষ দশ দেশ হলো বতসোয়ানা, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, পেরু, রাশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, বাংলাদেশ ও চীন। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দশ দেশ হলো ভেনেজুয়েলা, লেবানন, জাম্বিয়া, বাহরাইন, অ্যাঙ্গোলা, শ্রীলঙ্কা, তিউনিশিয়া, মঙ্গোলিয়া, ওমান ও আর্জেন্টিনা।
আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই তালিকায় ভারত ১৮, পাকিস্তান ৪৩ এবং শ্রীলঙ্কা ৬১তম অবস্থানে রয়েছে।
