নতুন মানদণ্ডে সুস্থ হাজার ছাড়াল

২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৬৬৫ শনাক্ত

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০৪:১৮ এএম

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। কয়দিন পরপরই ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গতকাল রবিবার ৫৭তম দিনে দেশে রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হলো। এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৬৫ জনের মধ্যে করোনা শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছিল গত বুধবার ৬৪১ জন। এ নিয়ে গত ছয় দিনের মধ্যে দুদিন ৬০০-এর অধিক এবং বাকি চার দিন ৫০০-এর অধিক রোগী শনাক্ত হলো। এদিকে করোনা রোগীদের সুস্থতার বিষয়ে নতুন মানদণ্ড ঠিক করেছে নবগঠিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটি। তাদের মানদণ্ড অনুযায়ী গতকাল পর্যন্ত সারা দেশের হাসপাতালগুলো থেকে ১ হাজার ৬৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

গতকাল অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ২১৪ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৮ জনের। এর মধ্যে ৬৬৫ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৯ হাজার ৪৫৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও দুজন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১৭৭ জন।

বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সর্বশেষ মৃত দুজনই ঢাকার বাইরের। তাদের একজনের বয়স ১১-২০-এর মধ্যে এবং অন্যজন ষাটোর্ধ্ব। একজন নারায়ণগঞ্জের এবং অন্যজন রংপুরের অধিবাসী।

বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪৩৪ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৮ জনের, যা আগের দিনের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। তবে কম পরীক্ষা হলেও এদিন রোগী শনাক্ত হয়েছে আগের দিনের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। গত শনিবার রোগী শনাক্তের হার ছিল ৯ শতাংশ, গতকাল তা বেড়ে হয়েছে ১২ শতাংশ। অর্থাৎ গতকাল প্রতি একশজনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জনের মধ্যেই করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি।

বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৬৫ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১ হাজার ৬৩৭ জন। বর্তমানে সারা দেশে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিষয়ক কল এসেছে মোট ৭০ হাজার ২২১টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৫৬৯ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ হয়েছে ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ১৫৩টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯টি।

সুস্থতার নতুন মানদণ্ড : ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, নবগঠিত ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটি) কর্র্তৃক সুস্থতার একটি গাইডলাইন করা হয়েছে। সেখানে কাদের সুস্থ বলা যাবে এবং কারা হাসপাতাল ছাড়তে পারবে সেসব বিষয়ে কিছু মানদণ্ড ঠিক করা হয়েছে। সেসব মানদণ্ড অনুযায়ী দেশে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৬৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬২৪ জন। মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৭২ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ৭২, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৩১, বরিশাল বিভাগ থেকে ২৯, রংপুর বিভাগ থেকে ২৫, খুলনা বিভাগ থেকে ৬, রাজশাহী বিভাগ থেকে ২ ও সিলেট বিভাগের হাসপাতালসমূহ থেকে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন ২৯৮, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ২১৩, ঢাকা মহানগর হাসপাতাল থেকে ৩৮, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে ২৬, সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল থেকে ২২, রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে ১৫, সংক্রামক ব্যাধি (ইনফেকসাস ডিজিস) হাসপাতাল থেকে ৮ ও লালকুটি হাসপাতাল থেকে ৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে শুরু থেকেই প্রতিদিন মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা জানানো হতো। গত সপ্তাহে হঠাৎ করেই বলা হলো, এতদিন বলে আসা সুস্থের সংখ্যা শুধুই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের সংখ্যা। হাসপাতালে মাত্র চারভাগের একভাগ রোগী চিকিৎসা নেন। বাকি তিনভাগ রোগীই বাসা থেকে চিকিৎসা নেন, তাদের মধ্যে যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের তথ্য হালনাগাদ হয়নি, হলেই জানানো হবে। এর মধ্যেই গতকাল হঠাৎ করে নতুন মানদণ্ডের কথা বলে সহস্রাধিক সুস্থের কথা জানানো হলো। তবে এদেরও সবাই হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে বুলেটিনে। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়াদের বিষয়ে এদিনও কিছুই জানানো হয়নি। আগের হিসাবে গত শনিবার পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার মোট সংখ্যা ছিল ১৭৭ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত