চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর শতভাগ স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। করোনা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা কন্টেইনার ডেলিভারির জন্য গত ২৭ এপ্রিল এ ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্মকর্তারা বলেছেন, রেন্ট মওকুফ ঘোষণার পর গত ছয় দিনে ২৩ হাজার কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক। তবে জাহাজ থেকে নামার পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইয়ার্ডে কন্টেইনারের মোট সংখ্যায় খুব একটা পরিবর্তন আসছে না।
অন্যদিকে পোশাক কারখানাগুলো খুললেও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সে সঙ্গে সাধারণ ছুটির সময়সীমা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্দরের স্টোর রেন্ট বা ডেমারেজ চার্জ মওকুফের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা।
করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথম দফায় ১০ এপ্রিল পর্যন্ত আমদানিকারকদের শতভাগ স্টোর রেন্ট মওকুফের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু কাস্টমস ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না থাকা, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পরিবহন ব্যবস্থা না থাকা ও আমদানি পণ্যের দলিলাদি এসে না পৌঁছার কারণে অনেক আমদানিকারক সে সুযোগ নিতে পারেননি। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন আমদানিকারকরা। এ অবস্থায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা বাড়াতে নৌ মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে আবেদন জানান তারা। এতে ৪ মে পর্যন্ত আমদানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে শতভাগ স্টোর রেন্ট মওকুফের অনুমোদন দেয় নৌ মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা এক অফিস সার্কুলার অনুযায়ী, আজ সোমবার স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় এ সময়সীমা বাড়াতে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন।
বিজিএমইএ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি পণ্যের ওপর স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক। চিঠিতে বলা হয়, পোশাক শিল্পের পণ্য চালান দ্রুত খালাসে বিজিএমইএর নেওয়া পদক্ষেপে ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি ৫ মের পর আবারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে কারখানার অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ। এছাড়া বিদেশি সরবরাহকারীদের পাঠানো আমদানি দলিলাদি এখনো অনেক প্রতিষ্ঠান হাতে পায়নি। ফলে ৪ মের মধ্যে অনেক ক্ষেত্রে পণ্য খালাস সম্ভব হবে না। তাই পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে যতদিন সাধারণ ছুটি নির্ধারিত থাকবে ততদিন পণ্য চালান খালাসে বন্দরের স্টোর রেন্ট কিংবা ডেমারেজ চার্জ মওকুফের সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন।
একই মত পোষণ করেছেন চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, নানা প্রতিকূলতার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসায়ী বন্দর থেকে আমদানি পণ্য খালাস নিতে পারছেন না। এমনিতেই ব্যবসার দিক থেকে তারা অনেকটা বিপর্যস্ত। স্টোর রেন্ট মওকুফের সময়সীমা না বাড়ানো হলে তারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এর প্রভাব পড়বে পণ্যমূল্যে। তাই বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের অনুরোধে চেম্বারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, অফডকে সবরকম আমদানি পণ্যের কন্টেইনার পাঠানোর সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দ্বিতীয় দফায় শতভাগ স্টোর রেন্ট মওকুফ ঘোষণার পর বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ সময় গড়ে প্রায় প্রতিদিন চার হাজার টিইইউসের কাছাকাছি কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে। এর মধ্যে অফডকে গেছে প্রায় ১১ হাজার। বিজিএমইএ সভাপতির পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নৌ মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে। বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস কন্টেইনারের ধারণক্ষমতার বিপরীতে গতকাল রবিবার কন্টেইনার ছিল ৪৭ হাজার ২০০ টিইইউস। এদিন মোট কন্টেইনার জাহাজের সংখ্যা ছিল ৩৯। এর মধ্যে ১২ জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয়েছে। এ সময় জেটিতে বার্থিং পাওয়ার জন্য বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল আরও ২৭টি কন্টেইনার জাহাজ।
