৩৫ দিনে সবচেয়ে কম মৃত্যু

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০৪:৩৩ এএম

মহামারী করোনাভাইরাসের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখল এপ্রিল। এই ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার ৫১৩ জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মাসটিতে মাঝের এক দিন বাদে সব দিন ৪ হাজারের বেশি ছিল মৃত্যুর সংখ্যা। কোনো কোনো দিন সেই সংখ্যা ৯ থেকে ১০ হাজারে পৌঁছায়। তবে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩ হাজার ৪৮১ জনে। এক দিনে নতুন মৃত্যুর সংখ্যায় যা গত ৩৫ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ২৯ মার্চ ৩ হাজার ৩৪৩ জন মারা গিয়েছিল। এদিকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে কম দৈনিক মৃত্যুর তথ্য লিপিবদ্ধ হয়েছে বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তুতি নিতে থাকা ইউরোপের ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রবিবার ২৪ ঘণ্টায় ফ্রান্স ১৩৫ জন মৃত্যুর কথা জানিয়েছে, স্পেন ১৬৪, যা মধ্য মার্চের পর থেকে দেশ দুটিতে এক দিনে সবচেয়ে  কম মৃত্যু আর ইতালি এক দিনে ১৭৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে; যা দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

তবে মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করলেও এখনো ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক ও ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় সতর্ক থাকতে বলেছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি যেসব দেশ লকডাউন তুলে নেওয়ার চিন্তা করছে তাদের নতুন করে বিপর্যয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের এ সংস্থাটি বলছে, করোনার বিরুদ্ধে চলমান লড়াই আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হবে।

গেল বছর শেষ দিন চীনের উহানে ভাইরাসটির প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম মাসে তুলনামূলক কম ছড়ালেও ফেব্রুয়ারি থেকে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে ভাইরাসটি। ৩১ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব দেশের সরকারকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানায় সংস্থাটি। ১১ মার্চ করোনাভাইরাসকে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। মার্চ মাসেই রোগটিতে বিশ্বে আক্রান্ত হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮৫ জন। আর মারা যায় ৩৮ হাজার ২৩ জন। মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ জন করে মারা গেলেও এপ্রিলে এসে সেই হার বেড়ে যায় আরও ভয়ংকর রূপে। ওই মাসের প্রথম ১৫ দিনে বিশ্বজুড়ে মারা যায় ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ। আর শনাক্ত হয় ১২ লাখ ৩২ হাজার ৬২০ জন। পরে ১৫ দিনই একই হারে বেড়ে ৩০ তারিখ শেষে মৃত্যু আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৮ এবং ৩৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪ জনে।

এর আগে গত ৩১ মার্চ বিশ্বে মোট করোনা রোগী ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৮ জন। আর ওই দিন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই রোগটিতে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮৫ জন। আর মারা গেছে ৩৮ হাজার ২৩ জন। এরও আগের মাস ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ৬০৪। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৭৭।

ইউরোপের বেশির ভাগ দেশে করোনা সংক্রমণে কিছুটা ভাটা পড়লেও রাশিয়ায় ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। রবিবার দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তবে সেখানে অন্য দেশগুলোর তুলনায় মৃত্যুর হার এখনো কম। রোগী বাড়ছে ইউরোপের আরেক দেশ তুরস্কেও। এ ছাড়া ব্রাজিল, কানাডা, পেরু, ইকুয়েডর, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশে ভয়ংকর হতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ২৯২। মারা গেছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৮৪ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১১ লাখ ৭৮ হাজার ৯১২ জন। চিকিৎসাধীন আছে ২১ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৬ জন। তাদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৯১১ জনের অবস্থা গুরুতর। 

এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ৭৯৪ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১১৬। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০১। মারা গেছে ২৫ হাজার ৪২৮ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২৯ হাজার ৭৯ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৩৮। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ হাজার ৭৩৪, আক্রান্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৪ জন। ফ্রান্সে মারা গেছে ২৫ হাজার ২০১ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬২ জন।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪৫। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬ হাজার ৮৮৬ জন।

নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ৭৭০ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮২ জনের। বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ২৬৭ জন। মারা গেছে ৭ হাজার ৯২৪ জন।

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৯৮১, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬২ জনের। তুরস্কে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৫ জন আক্রান্ত। ৩ হাজার ৩৯৭ জন মারা গেছে।

সুইডেনে ২২ হাজার ৭২১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২ হাজার ৭৬৯ জন।

রাশিয়ায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা গেছে ১ হাজার ৩৫৬ জন।

কানাডায় রোগীর সংখ্যা ৫৯ হাজার ৮৪৪। মারা গেছে ৩ হাজার ৭৬৬ জন।

ব্রাজিলে ১ লাখ ২ হাজার ৭১৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৭ হাজার ১০৬।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮ হাজার ৬৪৭ আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ২৭৭ জনের। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮০০ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

এ ছাড়া অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে হাজারেরও বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত