দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার করোনা শনাক্তের ৫৮তম দিনে দেশে সর্বমোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৩ জন। এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৮ জনের মধ্যে করোনা শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় এত সংখ্যক রোগী শনাক্ত দেশে এ যাবত সর্বোচ্চ। এর আগে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৬৫ জন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে টানা দুদিন দেশে সাড়ে ছয়শোর বেশি করে রোগী শনাক্ত হলো। এছাড়া সর্বশেষ এক সপ্তাহে প্রতিদিনই পাঁচশোর বেশি করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে সর্বমোট করোনা শনাক্ত যখন ১০ হাজার ছাড়াল, তখন দেশে সর্বমোট মৃত্যু ১৮২ এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৯ জনে।
গতকাল অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৬ হাজার ৩১৫ জনের। পরীক্ষা হয়েছে ৬ হাজার ২৬০ জনের। এর মধ্যে ৬৮৮ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ১০ হাজার ১৪৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে সর্বমোট মৃত্যুবরণ করলেন ১৮২ জন।
বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন মোট ১৪৭ জন। এর মধ্যে রাজধানীর বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১৩ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৩, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪, ঢাকা মহানগর হাসপাতালে ৭ ও লালকুটি হাসপাতালে ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭, রাজশাহী বিভাগে ৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭, রংপুর বিভাগে ৪ ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ১৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। দেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ হয়েছেন মোট ১ হাজার ২০৯ জন।
তিনি জানান, সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করা ৫ জনই পুরুষ। তাদের ষাটোর্ধ্ব ৩ জন, ৫১-৬০ এর মধ্যে ১ জন ও ৩১-৪০ এর মধ্যে একজন। তাদের ৩ জন ঢাকা শহরের, একজন সিলেট ও অন্যজন ময়মনসিংহের অধিবাসী।
দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। গতকাল ৫৮তম দিনে দেশে করোনা শনাক্ত দশ হাজার ছাড়াল। এর মধ্যে প্রথম ৫ হাজার রোগী শনাক্ত হতে লেগেছে ৫০ দিন। গত ২৬ এপ্রিল ৫০তম দিনে দেশে সর্বমোট রোগী ৫ হাজার ছাড়ায়। কিন্তু পরের ৫ হাজার রোগী শনাক্ত হতে লেগেছে মাত্র ৮ দিন। তবে শেষদিকে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। সর্বমোট ১৮২ মৃত্যুর মধ্যে শেষ ৮ দিনে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭ জন।
গতকাল বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ৯০ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১ হাজার ৬৩৬ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৭৪২ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৪১ হাজার ৯৩৩ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ৬৯ হাজার ৮২৪টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৫৭৩ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৯৩টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৯টি।
আরও জানানো হয়, নতুন আরও দুটি ল্যাবে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮৭ হাজার ৬৯৪ জনের।
রাঙ্গামাটি ছাড়া সব জেলায় করোনা : আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত দেশের একমাত্র রাঙ্গামাটি জেলা ছাড়া সব জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। সর্বশেষ রোগী শনাক্ত হওয়া তিন জেলা হলো খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা ও নাটোর। গতকাল বুলেটিনে জানানো হয়, এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর বেশি রোগী আছে চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী আছে ঢাকা মহানগরীতে, এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলায়। চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী আছে কুমিল্লায়, সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জে, রংপুরের সদরে, খুলনার যশোর জেলায়, ময়মনসিংহের সদরে, বরিশালের সদরে এবং রাজশাহী বিভাগে সর্বাধিক রোগী পাওয়া গেছে জয়পুরহাট জেলায়।
মৃতদের ৭৩ ভাগই পুরুষ : বুলেটিনে জানানো হয়, গত রবিবার পর্যন্ত সর্বমোট মৃতদের মধ্যে ৭৩ ভাগ পুরুষ ও ২৭ ভাগ নারী। মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ষাটোর্ধ্ব বয়সের মধ্যে আছেন সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ। এরপর আছেন ৫১-৬০ এর মধ্যে ২৭ শতাংশ, ১৯ শতাংশ আছেন ৪১-৫০ এর মধ্যে, ৭ শতাংশ আছেন ৩১-৪০ এর মধ্যে, ৩ শতাংশ আছেন ২১-৩০ এর মধ্যে এবং দশ বছরের নিচের বয়সে আছে ২ শতাংশ মৃত। এছাড়া সর্বমোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ ভাগ পুরুষ এবং ৩২ ভাগ নারী রয়েছেন।
