মায়ের গয়না বিক্রি করে ত্রাণ তহবিলে টাকা দিল রাহুল

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০৪:৫৫ এএম

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট সংকটে প্রতিবন্ধীদের উপকারের জন্য মায়ের গয়না বিক্রির ১৫ হাজার ৩০০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে দান করেছে রাহুল বিশ্বাস নামে প্রতিবন্ধী এক কিশোর। সে কিশোরগঞ্জের সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ডিসির বাংলোয় উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর হাতে প্রতিবন্ধী রাহুল বিশ্বাস অনুদানের নগদ টাকা হস্তান্তর করে। এ সময় তার মা শোধা রানী বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

রাহুল বিশ্বাস উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের জানায়, মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে তাদের একটি সংস্থা রয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে এ সংস্থার উদ্যোগে সাবান, মাস্ক, সচেতনতামূলক লিফলেট ও জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ তারা চালিয়ে গেছে। এছাড়া অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের পরিচালিত ছোট একটি ওষুধের দোকান থেকে প্রায় ১৭ হাজার টাকার ওষুধ বিনামূল্যে বিতরণ করে অর্থ সংকটে পড়ে। পরে সে তার মায়ের কাছে টাকা চায়। তার মা গয়না বিক্রি করে ১৯  হাজার টাকা দিলে মায়ের সঙ্গে কথা বলে সে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

জেলার করিমগঞ্জের গুজাদিয়ার খয়রতহাটি গ্রামের রাহুল বিশ্বাস আরও জানায়, মায়ের ইচ্ছা পূরণ ও দেশের প্রতিবন্ধীদের কল্যাণের জন্য এ অনুদানের টাকা ব্যয় হবে, এর চেয়ে আনন্দের আর কিছুই নেই। সারা জীবন প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছে। নগদ টাকা গ্রহণকালে অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবদুল্লাহ আল মাসউদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার ও মাছমা আক্তার, জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী অ্যাডভোকেট মায়া ভৌমিকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টাকা গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী এই প্রতিবন্ধী যুবককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এই স্কুলছাত্রটি আজ যা করল তা আমাদের সবার জন্যই মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ফার্মেসি দোকানের ব্যবসা করা এই প্রতিবন্ধী ছেলেটি নিজের বিবেকের তাড়নায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের সাহায্যার্থে মায়ের কাছে আবদার করে টাকা দেওয়ার জন্য। মা টাকার সংস্থান করতে না পেরে অনন্যোপায় হয়ে নিজের গহনা বিক্রির টাকা তার সন্তানের হাতে তুলে দেন। এ এক অবিস্মরণীয় বিষয়। আমি সমাজের বিত্তবানদেরও আহ্বান জানাব এই সংকট মুহূর্তে সবাইকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসতে। এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যে এই সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলটি সরকারি এফিলিয়েশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, এই টাকা আজ (গতকাল) সোমবারই প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত