চিকিৎসকদের না পেয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বাইরে ভ্যানের ওপরই সন্তান প্রসব করেছেন এক গৃহবধূ। তিন ঘণ্টা ধরে অনুনয়-বিনয় করেও কোনো চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর মন টলাতে পারেননি দরিদ্র ঋষি পরিবারের ওই নারীর স্বজনরা। শেষমেশ তারা ভ্যানের ওপরই কাপড় ঘিরে ডেলিভারি করান ওই গৃহবধূর। গত শুক্রবার সকালে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বাইরেই এ ঘটনা ঘটে। সেদিন ঘটনাটি অনেকেই দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি কেউ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চিকিৎসকদের না পেয়ে সঙ্গে থাকা লোকজন ভ্যানের ওপরই কাপড় ঘিরে ডেলিভারি করান ওই গৃহবধূর। হাসপাতালের বাইরে ডেলিভারি হওয়ার পর আর হাসপাতালে ভর্তি না করেই বাড়িতে চলে যান তারা।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ সদর উপজেলার মাছখোলা ঝুটিতলা ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার মা অষ্টুমি রানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাইরেই সন্তান প্রসব হওয়ার পর আমরা পরিবারের সবাই মনোকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাই।’
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) মাধব দত্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
চিকিৎসা না পেয়ে গৃহবধূর রাস্তায় সন্তান প্রসবের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করেন। পরে অবশ্য তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে। গাইনি বিভাগ তিনতলায়, সেখানে নিতে গেলে সময় লাগে।’
তবে ওই গৃহবধূকে জরুরি বিভাগে কেন কোনো চিকিৎসক বা নার্স দেখেননি এমন প্রশ্নের জবাবে নিশ্চুপ থাকেন এই চিকিৎসক। অন্যদিকে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত হবে।’
