সাধারণ ছুটিতে লেনদেন চালু না-ও হতে পারে

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০৬:১৪ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণে দেশব্যাপী চলা সাধারণ ছুটির মধ্যে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) অনুমতি চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। ১০ মে আংশিকভাবে লেনদেন চালুর সম্মতি চেয়ে গত রবিবার এসইসির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের কাছে চিঠি পাঠায় ডিএসই। তবে চিঠিতে ডিএসই যেসব প্রস্তাব উল্লেখ করেছে তাতে সাধারণ ছুটির মধ্যে লেনদেন চালু করা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে বলে এসইসি সূত্রে জানা গেছে। 

লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রস্তাব ছাড়াও কয়েকটি সিকিউরিটিজ আইন থেকে অব্যাহতি চেয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। এসইসি সূত্রে জানা গেছে, সিকিউরিটিজ আইন থেকে অব্যাহতি দিতে হলে কমিশন সভার প্রয়োজন হবে। কিন্তু এসইসির দুজন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিশন এখন কোরাম সংকটে রয়েছে। তাই এখন কমিশন সভার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই ডিএসই শর্তসাপেক্ষে লেনদেন চালুর যে চিঠি দিয়েছে তাতে সম্মতি দেওয়ার অবস্থায় নেই এসইসি।

এসইসিতে পাঠানো ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে লেনদেন চালুর ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকে সরকারঘোষিত অপরিহার্য সেবার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটিতে দেশব্যাপী লকডাউন চলছে। এ সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লেনদেন চালু করতে হলে পুঁজিবাজারকে অপরিহার্য সেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এ জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া এই মুহূর্তে লেনদেন চালু হলেও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার স্থানান্তর, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) কার্যক্রম, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মনিটরিং ও কমপ্লায়েন্স, লাইসেন্স নবায়ন ইত্যাদি কাজ করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলোর শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন। বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতির কারণে উপরিউক্ত বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি চেয়েছে ডিএসই। এর বাইরে আরও বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে।

এ বিষয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, লেনদেন চালুর বিষয়ে ডিএসইর প্রস্তাবসংবলিত চিঠিটি আমরা পেয়েছি। স্টক এক্সচেঞ্জের দেওয়া প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে লেনদেন চালুর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলা যাচ্ছে না।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। পাঁচ দফায় এই ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার।  গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৩। সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসিসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে।   করোনাভাইরাসের সংত্রমণ রোধে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও পরিচালনা পর্ষদের সভাও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া বিশে^র অন্য সব স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেন চালু রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারের লেনদেন ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় না হওয়ায় সরকারি সাধারণ ছুটির সঙ্গে মিল রেখে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা জরুরি প্রয়োজনে অর্থ তুলতে পারছেন না। বিদেশিরাও আস্থা হারাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ৩০ এপ্রিল ডিএসইর ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় দেশে সাধারণ ছুটি বাড়লে ১০ মে লেনদেন চালু করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

লেনদেন চালুর বিষয়ে রবিবার এসইসিকে দেওয়া চিঠিতে ডিএসই জানিয়েছে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে লেনদেন চালুর বিষয়ে এখনো ট্রেকহোল্ডারদের লিখিত মতামত নেওয়া যায়নি। তবে তাদের সম্মতি নিয়েই লেনদেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, কমিশনের সম্মতির পরে লেনদেন চালু করতে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তুতির জন্য তিন দিন সময় প্রয়োজন হবে। তবে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যদি লেনদেন চালু সম্ভব হয়, তাহলে তা দুই ঘণ্টার বেশি চালানো যাবে না। কারণ হিসেবে ডিএসই জানিয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকিং কার্যক্রমও সীমিত আকারে চলছে। চেক ক্লিয়ারিংয়ের জন্যও ব্যাংকগুলোর সহযোগিতা নিতে হবে।

অবশ্য লেনদেন চালু হলেও এখন সব সেবা দেওয়া সম্ভব হবে না। সশরীরে উপস্থিতির পরিবর্তে অনলাইনে সব ডকুমেন্ট কমিশনকে পাঠানো হবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির দেওয়া সব তথ্য প্রকাশ সম্ভব হবে না। কারণ অধিকাংশ কোম্পানি বন্ধ থাকায় তথ্যের সত্যতা যাচাই অনেক সময়ই সম্ভব না-ও হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত