নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য দায়ী অ্যান্টিবডি আবিষ্কারের কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় ল্যাবে ৪৭ডি১১ নামের অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে।
বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ৪৭ডি১১ অ্যান্টিবডি সার্স-কভ-২ ভাইরাসের ‘কুখ্যাত’ স্পাইক প্রোটিনকে ব্লক করে দিতে সক্ষম। এটি এখন যদি মানুষের ক্ষেত্রে ঠিকঠাক হয়, তাহলে ভাইরাসটির হাত থেকে পৃথিবীবাসী রক্ষা পেতে পারে।
এই অ্যান্টিবডি তৈরিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের উট্রেচট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে।
গবেষকেরা বলছেন, তারা ৪৭ডি১১ অ্যান্টিবডি শনাক্তের পাশাপাশি একই গোত্রের আরও স্পাইক প্রোটিনকে দুর্বল করতে সক্ষম হয়েছেন যার কারণে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি হয়।
ইউরোপের গবেষকেরা বলছেন, এই অ্যান্টিবডি মানুষের শরীরে দেয়া গেলে সংক্রমণের ধরণ পাল্টে দিতে পারে অথবা সুস্থ মানুষকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।
‘২০০২/২০০৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সার্স-কভ ভাইরাসের অ্যান্টিবডি টার্গেটের মতো এবারও আমাদের দল একই কাজ করেছে,’ জানিয়ে উট্রেচট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর বেরেন্ড-জান বশ নেচার কমিউনিকেশনসে লিখেছেন, ‘সার্স-কভ অ্যান্টিবডির যে সংগ্রহ ছিল সেটি ব্যবহার করে আমরা ল্যাবে নতুন অ্যান্টিবডি শনাক্ত করেছি। এটি সার্স-কভ-২ সংক্রমণও কমিয়ে দিতে পারে।’
তিনি জানান, মানুষের রক্তে এই অ্যান্টিবডি পরিশুদ্ধ না করে চিকিৎসার জন্য ল্যাবেও তৈরি সম্ভব।
তবে সেটি দিয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য বশের, ‘অ্যান্টিবডির ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করাটা অনেক ট্রায়ালের ওপর নির্ভর করবে। কতটুকু ঝুঁকি থাকবে সেটি বুঝতে উপযুক্ত পরীক্ষার অপেক্ষায় আছি আমরা।’
অ্যান্টিবডি কী: ইমিউনোগ্লোব্যুলিন বা অ্যান্টিবডি হল এমন একটি প্রতিরোধক প্রোটিন যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা) দ্বারা উৎপন্ন হয়।
শরীরে ক্ষতিকর কোনো পদার্থ প্রবেশ করলে এই অ্যান্টিবডি তা শনাক্তের পর প্রতিরোধ করে।
বিশেষায়িত শ্বেত রক্ত কণিকায় অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয় যাকে বি লিম্ফোসাইটস বা বি সেল বলা হয়।
