দেশ রূপান্তরকে ডা. জাফরুল্লাহ

কিট নিতে গড়িমসি করছে বিএসএমএমইউ

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ০৫:৩২ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিতে গড়িমসি করার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেশ রূপান্তরের কাছে এ অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলো করোনা রোগীর টেস্ট যথাসময়ে করতে পারছে না। অনেক রোগীর নমুনা পড়ে থাকছে। অথচ এমন সময়ে তারা (বিএসএমএমইউ) কিট নিতে দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করছে।

তিনি আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউ ভিসিকে চিঠি দেয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এরপর শনিবার হাসপাতালের ভিসি ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। কমিটির প্রধান করা হয় ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিনা তাবাসসুমকে। তারা শনিবার থেকে প্রতিদিন বৈঠক করলেও কবে নাগাদ কিট নেবেন, কী প্রক্রিয়ায় কাজ করা হবে তা ঠিক করতে পারেনি। গতকালও বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। এতে অংশ নেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত বিএসএমএমইউ কর্র্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ উপাচার্য (ভিসি) ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নেওয়ার বিষয়ে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাপ না হওয়ায় এ বিষয়ে তার সর্বশেষ তথ্য জানা নেই।

গত বৃহস্পতিবার ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে তাদের উদ্ভাবিত কিট পরীক্ষার অনুমতি দেয়। তার আগে ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিট হস্তান্তর করার জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ ওই অনুষ্ঠানে যায়নি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভাষ্য, পরদিন জমা দিতে গেলেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেউ কিট গ্রহণ করেনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, বুধবার (আজ) বুদ্ধপূর্ণিমা। এরপর তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরও বলেন, তারা গত রবিবার থেকে প্রস্তুত ছিলেন বিএসএমএমইউকে করোনাভাইরাস শনাক্তে নিজেদের তৈরি কিট হস্তান্তর করার জন্য। তারা যে পরিমাণ চাইবে সে পরিমাণ সরবরাহ করা হবে। যেহেতু বিএসএমএমইউতে করোনা রোগীর টেস্ট হয় সেহেতু তারাই পারবে এই কিটের পরীক্ষা করতে। হাসপাতালে কিট সরবরাহ করার পর কমিটির সদস্যরা গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষা করবেন। এরপর তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে রিপোর্ট জমা দেবেন। 

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, তারা একেকটি নমুনা কমপক্ষে পাঁচবার করে পরীক্ষা করে দেখেছেন। পরীক্ষায় তারা সফল হবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের কাছে এই কিট চাইছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত