প্রণোদনার ঋণ দ্রুত ছাড়ের আহ্বান ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১২:২১ এএম

করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ে টিকে থাকার লক্ষ্যে সরকার প্রধান প্রণোদনার ঘোষণা দিলেও ব্যবসায়ী পর্যায়ে তা পাওয়ার  ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। আইনি ও নথিপত্রের বেড়াজালে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এ সুবিধার বাইরে থাকছে। আবার মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার ক্ষেত্রেও সমন্বয়ে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের নানামুখী সমস্যা সমাধান করে দ্রুত সরকার ঘোষিত প্রণোনার অর্থ ছাড় করার জন্য ব্যাংকগুলোকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলেন, দ্রুত অর্থ ছাড় না হলে এ প্রণোদনার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। ব্যাংক অনেক ব্যবসা করেছে। মানুষ বেঁচে থাকলে ব্যবসা আবারও করতে পারবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক সভায় তারা এসব কথা বলেন। ‘সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এতে সংগঠনে বর্তমান ও সাবেক নেতাদের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদরা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার সম্প্রতি ৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে নানা নিয়মকানুনের ফাঁদে পড়ে অনেক উদ্যোক্তাই ওই প্রণোদনার সুবিধা নিতে পারছেন না।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক অংশীদারিত্বমূলক হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা ‘অসম অংশীদারিত্ব’। আমরা চাই ব্যাংক শুধু সুখের সময় নয়, দুঃখের সময়ও থাকবে। সময়কে বিবেচনা করতে হবে।

সংগঠনের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যবসা এবং ব্যবসায়ীরা জীবিত না থাকলে ব্যাংক কাকে দিয়ে ব্যবসা করবে। ব্যবসা মরে গেলে ব্যাংকও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দ্রুত প্যাকেজ ছাড় করার উদ্যোগ নেওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা-১০ আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, মহামারীর এই সময় ব্যাংকগুলোকে লাভের চিন্তা না করে উদ্যোক্তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসতে হবে। দুর্যোগের এই মুহূর্তে দ্রুত ঋণ ছাড় করাই হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

এফবিসিসিআইকে একটি হেল্প ডেস্ক করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানেন না ব্যাংক থেকে কীভাবে প্রণোদনার ঋণ পাবেন। আমার বিশ্বাস ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর এবং এফবিসিসিআই একযোগে কাজ করলে সংকট উত্তরণ সহজ হবে। তবে আমরা চাই না ঋণখেলাপি আরও বেড়ে যাক। অনেকে ইচ্ছে করে খেলাপি হয়েছেন। এটা আর করা যাবে না।

সংগঠনের সাবেক সহসভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেও ব্যাংকের সার্কুলারে সমস্যা রয়েছে। প্রণোদনায় সব রপ্তানিকারককে ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে শ্রমিকের বেতনের জন্য ঋণ দেওয়ার ঘোষণা হলেও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের দেওয়া হচ্ছে না। এসএমইর প্যাকেজ থেকে নেওয়া যাবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করেছে। কিন্তু ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো আদেশ করেনি। বলা হচ্ছে চলতি মূলধনের জন্য নেওয়া যাবে।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তা বলেন, এখন বেঁচে থাকাটাই মুনাফা। ব্যবসায়ীরা মরে যাবেন, আর ব্যাংকগুলো এখনো মুনাফার চিন্তা করবে এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংকের অনেক নির্দেশনা সম্পর্কে শাখাগুলো সময়মতো অবহিত হয় না।

এ সময় ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকেও তাদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এবিবির (অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ) সভাপতি আলী রেজা ইফতেখার বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার মধ্যে চলতে হয়, সেজন্য অসম্পূর্ণ ডকুমেন্টে ঋণ অনুমোদনে সমস্যা হয়। সব ডকুমেন্ট থাকলে সময়মতো ঋণ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ক্রান্তিকালে সবাইকে বেঁচে থাকতে হবে। তিনি বলেন, এখন ব্লক অ্যাকাউন্টে ১৬ হাজার কোটি টাকা রয়েছে। এটা তো জনগণের টাকা।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রণোদনার অর্থ পেতে খুব বেশি দেরি হয়ে গেলে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা এই প্রণোদনা কীভাবে দ্রুত পেতে পারেন তা দেখা দরকার। এ সময় সরকার ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যম যাতে সহজে ঋণসুবিধা পেতে পারে, সে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, এসব গণমাধ্যমে অনেক সংবাদকর্মীর বেতন প্রদানে সমস্যা হচ্ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, আবদুল মাতলুব আহমাদ, বিশ্বব্যাংকের গ্রুপের সাবেক সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত