এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দরের চিত্র

রপ্তানি কমেছে ৮৭ শতাংশ আমদানি ২২ শতাংশ

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১২:২৬ এএম

দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান দ্বার চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। সর্বশেষ গত এপ্রিলে চট্টগ্রাম কাস্টম বন্দর দিয়ে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮৭ শতাংশ। একই সময় আমদানি কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাবে পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে এ বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। বিশেষত রপ্তানির বেশিরভাগই এই বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ সূত্র জানিয়েছে, গত এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক ও বন্ডেড পণ্য (রপ্তানির শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত) আমদানি হয়েছে ৬৬ লাখ ৫১৮ মেট্রিক টন পণ্য। অথচ এর আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এপ্রিলে একই পণ্য আমদানির পরিমাণ ছিল ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন। অর্থাৎ গত এপ্রিলে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে আমদানি কমেছে ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

অন্যদিকে গত এপ্রিলে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ৪৩ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে আলোচ্য বন্দর দিয়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ৯৪ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। অর্থাৎ গত মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৮৭ শতাংশ।

রপ্তানিতে এত বিপর্যয় স্মরণাতীতকালে ঘটেনি বলে জানিয়েছেন অন্যতম রপ্তানিকারক ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, করোনার কারণে জরুরি খাদ্যপণ্য ও ওষুধ বাদে সব ধরনের পণ্যেরই চাহিদা কমে গেছে। আমাদের প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের পণ্যের আদেশ বাতিল হয়েছে। এমনকি যেসব পণ্য জাহাজীকরণের জন্য বন্দরে ছিল, ওইসব পণ্যও  ক্রেতারা বাতিল করেছে। এর প্রভাব দেখা গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানির চিত্রে। একই কারণে আমদানিও কমেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়াও বেনাপোল শুল্ক স্টেশন, মোংলা, দেশের বেশ কিছু স্থলবন্দর এবং বিমানবন্দরের মাধ্যমেও আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ওইসব বন্দর দিয়ে মূলত রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হয়ে থাকে। সূত্র জানিয়েছে, ওইসব বন্দরেও আমদানি-রপ্তানিতে বিপর্যয় ঘটেছে।

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো। করোনা এই অঞ্চলের দেশগুলোতেই বেশি হানা দিয়েছে। তবে সম্প্রতি ইউরোপের কিছু দেশে করোনা প্রকোপ স্থিতিশীল কিংবা কমতির দিকে। এসব অঞ্চলের কিছু দেশ ব্যবসা-বাণিজ্যের অবরুদ্ধ অবস্থা (লকডাউন) থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত