সংক্ষিপ্ততম পরিসরে আজ মন্ত্রিসভা বৈঠক

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০৬:৫৪ এএম

বৈশ্বিক মহামারী আকারে দেখা দেওয়া প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের কারণে আজ বৃহস্পতিবার সীমিত পরিসরে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণববনে এ বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে তিনটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে। যে তিন মন্ত্রণালয়ের এজেন্ডা শুধু সেসব মন্ত্রীকেই বৈঠকে ডাকা হয়েছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সব পূর্ণ মন্ত্রী এবং যেসব মন্ত্রণালয়ের চার্জে প্রতিমন্ত্রীরা রয়েছেন, তাদের সবারই মন্ত্রিসভা বৈঠকে থাকার কথা। তবে রুলস অব বিজনেস প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা দিয়েছে তিনি যেকোনো অবস্থায় এর বিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী যেকোনোভাবেই বৈঠক করতে পারেন।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মঈনউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক করার এখতিয়ার রয়েছে। রুলস অব বিজনেস তাকে এ ক্ষমতা দিয়েছে। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীই নন, সব মন্ত্রণালয়ের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হয়। এ কারণে তিনি সব মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি ইচ্ছা করলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমেও বৈঠক করতে পারেন।’

বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠক আহ্বান করেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীরা এ বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া অন্যান্য প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে যেসব বিষয় স্থান পাবে তা-ও চূড়ান্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। এ ছাড়া খসড়া নীতিমালা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যেসব চুক্তি করা হয়, সেগুলোর খসড়া এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় অর্জিত বিভিন্ন দিক মন্ত্রিসভাকে অবহিত করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। এসব আইন, নীতিমালা বা চুক্তির যেসব বিষয় মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলা হবে তা চূড়ান্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক একজন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মন্ত্রিসভা বৈঠকের চার দিন আগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের কাছে পরবর্তী বৈঠকের এজেন্ডা পাঠানো হয়। সেসব এজেন্ডার সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রীরা যেন সবকিছু পড়ে এবং বুঝে বৈঠকে অংশ নেন। সে কারণেই চার দিন আগে সব নথিপত্র তাদের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্যই আলোচ্যসূচির সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন বিষয় পড়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অংশ নেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় মন্ত্রীদের তাগিদ দিয়েছেন আলোচ্যসূচির সবকিছু ভালোভাবে পড়ে বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য। কিন্তু মন্ত্রীরা সাধারণত তার মন্ত্রণালয়ের বিষয়টুকুই কোনোভাবে পড়ে বৈঠকে অংশ নেন। অনেক সময় পড়ার বিষয়টুকুও তারা সংশ্লিষ্ট সচিবের ওপর ছেড়ে দেন। এসব কারণে তারা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে খুব একটা ভূমিকা রাখার সুযোগ পান না। তারপরও মন্ত্রিসভা হচ্ছে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের জায়গা। করোনাভাইরাসের কারণে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সেসব বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগও কমে যাচ্ছে। তিন মন্ত্রীর অংশগ্রহণে যে বৈঠক হবে তা একটি ঐতিহাসিক বৈঠক। এত কম মন্ত্রী নিয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক করার নজির নেই।

এর আগে ৬ এপ্রিল গণভবনে সর্বশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে মাত্র সাতজন মন্ত্রী অংশ নেন; সবার মুখে ছিল মাস্ক। করোনাভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে তাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।

সাধারণ ছুটিতে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় না। করোনাভাইরাসজনিত এই অনাকাক্সিক্ষত দীর্ঘ ছুটিতে প্রধানমন্ত্রী সব জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্স করছেন। জেলা প্রশাসক ছাড়াও জেলা পর্যায়ে কর্মরত সব সেক্টরের প্রধানরা এসব বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকেন ওই সব জেলার সাংসদরাও। এসব বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ত্রাণ এবং চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত