বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা

প্রাধিকার দিতে হবে করোনা মোকাবিলায়

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০১:০০ এএম

করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত  অর্থনীতি বাঁচাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান সচল করার বিকল্প নেই। বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেক মধ্যবিত্তও নেমে এসেছে নিম্নবিত্তে। এ অবস্থায় করোনা-পরবর্তী সময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি চালু করতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। এ ছাড়া কর্মহীন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ থাকা উচিত। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে  বড় উদ্যোগ নেওয়াও এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা। আগামী বাজেট প্রত্যাশা নিয়ে আলাপচারিতায় ব্যবসায়ী নেতারা দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন। আলোচনা করেছেন স্টাফ রিপোর্টার মামুন আব্দুল্লাহ   

শেখ ফজলে ফাহিম : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, স্টিমুলাস বাজেট বাস্তবায়ন চাই আমরা। তবে আমার মনে হয়, আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। করোনা পরিস্থিতির এই সময়ে দেখা গেল, স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। দেশ উন্নত হওয়ার সঙ্গে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন।

এ ছাড়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা থাকা উচিত। যেখানে ট্যাক্স ও ভ্যাটে ছাড় দেওয়া এবং ব্যাংকঋণ বা প্রণোদনার  যে প্যাকেজ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রধানমন্ত্রীর প্যাকেজ যেন সবাই সহজেই পেতে পারে। বাজেটে তার নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া অনেক উদ্যোক্তা নিজেদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা হারাতে পারেন। এ জন্য নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মনোযোগ থাকতে হবে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য চলতি বছরের বাজেটের মতো আগামী বাজেটেও একটি তহবিল থাকা উচিত।

আবদুস সালাম মুর্শেদী : বাংলাদেশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি  বলেন, এই মুহূর্তে বলা মুশকিল কত দিনে এই করোনাভাইরাস সমস্যার সমাধান হবে। সাধারণ ছুটি থাকায় এখন অনেকের কাজ নেই। ফলে অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত সীমাহীন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা উচিত। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্য যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, সেটা যেন সহজেই বাস্তবায়ন হয়, সবাই এখান থেকে সুবিধা নিতে পারে, সে নির্দেশনাও থাকা উচিত। কারণ ব্যবসা সচল হলে অনেক মানুষ কাজ পাবে, কাজ পেলে কষ্ট কমে আসবে। অন্যদিকে অনেক ব্যবসায়ী ঝরে যাবেন, এই গ্যাপটা পূরণ করতে প্রয়োজন নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল।

সিদ্দিকুর রহমান : তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাজেট প্রতি বছর যেমন হয়, এবার তেমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। সুযোগও নেই। কারণ এত বড় দুর্যোগ এর আগে আর আসেনি। এ জন্য নিম্ন থেকে মধ্যবিত্তের খাওয়া-দাওয়া এবং জীবন-যাপনে সমস্যা যেন কমানো যায় এ বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজ কীভাবে সহজে বাস্তবায়ন করা যায় তার দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। যেন এই সুবিধা সবাই ভোগ করতে পারে। সবাই নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কালকারখানা চালু করতে পারে। এটি করতে পারলেই সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে।

মোহাম্মদ হাতেম : নিট খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য একটি দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। এ ছাড়া অনেক উদ্যোক্তা আর ব্যবসা করার মতো অবস্থায় থাকবেন না। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেবেন। তারা যেন সহজে এক্সিট করতে পারেন, দেউলিয়া না হন, বাজেটে তার নির্দেশনা স্পষ্ট হওয়া দরকার। কেননা দেউলিয়া হলে খেলাপি বাড়বে। আর খেলাপি বাড়াটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। ফলে কীভাবে সুদবিহীন ঋণ পরিশোধ করে এসব ব্যবসায়ী এক্সিট করতে পারেন, তার উদ্যোগ থাকতে হবে। এ ছাড়া বাজেটে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য তহবিল থাকতে হবে। নইলে কেউই নতুন বিনিয়োগে আসতে চাইবেন না।

লিয়াকত আলী ভূঁইয়া : আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সহসভাপতি বলেন, আমরা আবাসন শিল্পে করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবিলার জন্য ৪ ধরনের সুযোগ চেয়েছি। বাজেটে এসব দাবি যেন পূরণ করা হয়। আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য মূলধন  সরবরাহ, ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ, হাউজিং রি-ফিন্যান্সিং স্কিম পুনঃপ্রচলন  ও এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা। আমরা এসব সুবিধা না পেলে আবাসন শিল্পে জড়িত ৩৫ লাখ  কর্মসংস্থান হুমকিতে পড়বে।

আমরা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর আবেদন করেছি। ওই আবেদনে অবিলম্বে আবাসনশিল্পে বিনিয়োগকারীদের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে আবাসন খাতে এই আপৎকালীন সংকট উত্তরণে ডেভেলপারদের চলতি মূলধন হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি করেছি। এ ছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, এফবিসিসিআই এবং এনবিআরের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের আবাসনশিল্পের সমস্যা সমাধান এবং সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত সুপারিশগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা উচিত। আগামী বাজেটে এর ঘোষণা চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত