থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জরুরি সচেতনতা

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০২:০৩ এএম

৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস। থ্যালাসেমিয়া রোগ এবং এর প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে নিজেদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

থ্যালাসেমিয়া মূলত জিনগত রক্ত রোগ। এই রোগে রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী হিমোগ্লোবিন কণার উৎপাদনে সমস্যা হয়। থ্যালাসেমিয়া ধারণকারী মানুষ সাধারণত রক্তে অক্সিজেন স্বল্পতা বা অ্যানিমিয়াতে ভুগে থাকেন। অ্যানিমিয়ার ফলে অবসাদগ্রস্ততা থেকে শুরু করে অঙ্গহানি ঘটতে পারে। থ্যালাসেমিয়া সাধারণত আলফা ও বিটা এই দুই ভাগে বিভক্ত। আলফা থ্যালাসেমিয়ার রোগী সাধারণত জন্মের পরপর বা আগেই মারা যায়। আমরা যেসব রোগী দেখি তারা বিটা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বিটা থ্যালাসেমিয়ার আবার তিনটি ধরন আছে। সেগুলো হলো মেজর, মাইনর/ট্রেইট এবং ইন্টার মিডিয়া। সাধারণত মেজর রোগীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ প্রকট থাকে এবং প্রায়ই রক্ত দিতে হয়। থ্যালাসেমিয়া রোগের কোনো সহজলভ্য স্থায়ী চিকিৎসা বা টিকা নেই। যে পরিবারে থ্যালাসেমিয়া রোগী আছে তারাই জানেন এই রোগের শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুর্ভোগের কথা। এই রোগ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে এটি প্রতিরোধ করা।

কেন থ্যালাসেমিয়া হয়

স্বামী-স্ত্রী দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়ার বাহক হন, শুধু তখনই সন্তানদের এই রোগ হতে পারে; সে ক্ষেত্রে প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ২৫%। এ ধরনের পরিবারে একাধিক সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী দুজনের একজন যদি বাহক হন এবং অন্যজন সুস্থ হন, তাহলে কখনো এই রোগ হবে না। তাই বিয়ের আগে স্বামী স্ত্রী কেউ থ্যালাসেমিয়া বাহক কি না সেটি জেনে নেওয়া উচিত।

কীভাবে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ করা যায়

রক্তের ‘হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফরেসিস’ পরীক্ষার মাধ্যমে কেউ থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না তা জানা যায়। বিয়ের আগে হবু দম্পতিদের রক্ত পরীক্ষা করলে তাদের সন্তানদের মধ্যে এই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হলে এই সাবধানতা অতীব জরুরি। রক্তের গ্রুপের সঙ্গে থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

চিকিৎসা

মাইনর থ্যালাসেমিয়াতে সাধারণত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। মেজর থ্যালাসেমিয়াতে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন করাতে হয়। বারবার রক্ত নেওয়ার একটি বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে অতিরিক্ত লৌহ জমে যাওয়া। এর ফলে যকৃৎ বিকল হয়ে রোগী মারাও যেতে পারে। এ ধরনের জটিলতা প্রতিরোধে আয়রন চিলেশন থেরাপি দেওয়া হয়, অতিরিক্ত লৌহ বের করে দেওয়ার জন্য। অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন থ্যালাসেমিয়ার একটি কার্যকর চিকিৎসা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত