পানিতে দুর্গন্ধ, সরবরাহ কম

আপডেট : ০৮ মে ২০২০, ০৩:৫০ এএম

গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার পাশাপাশি খুলনা মহানগরীতে বাড়ছে সুপেয় পানির সংকট। ওয়াসা যতটুকু পানি সরবরাহ করছে তাতেও দুর্গন্ধ ও ময়লা থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী।  প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪০ শতাংশ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে খুলনা ওয়াসার। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৩ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় তাও সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে পানির স্তর নিচে নামায় বাসা-বাড়ির অগভীর নলকূপ ও সেন্টিফিউগাল পাম্পেও পানি মিলছে না। পানির এমন সংকটে নগরবাসীর মাঝে বাড়ছে অসন্তোষ। এ পরিস্থিতিতে খুলনা ওয়াসা বলছে, পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় দিন-রাত পাম্প চললেও চাহিদা অনুযায়ী পানি উঠছে না।

খুলনা মহানগরীতে বসবাস করে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পানির চাহিদার জন্য ভূগর্ভস্থ গভীর নলকূপ ও ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরুতেই নগরীর পিটিআই মোড়, টুটপাড়া ও মৌলভীপাড়া এলাকায় উৎপাদক নলকূপ চালুর পর পানির স্তর নিচে নামতে থাকে। ফলে নগরীতে হাতচাপ টিউবওয়েল ও বাসা-বাড়িতে স্থাপিত সেন্টিফিউগাল পাম্পেও চাহিদামতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াসা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নগরীতে বর্তমানে প্রতিদিন পানির চাহিদা রয়েছে ১১ কোটি লিটার। চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পানি খুলনা ওয়াসা সরবরাহ করে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩৩ থেকে ৩৫ ফুট নিচে নেমে যাওয়ায় তাও সরবরাহ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। খুলনা মহানগরীতে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৩ সালে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় মধুমতী নদী থেকে পাইপলাইনে পানি এনে পরিশোধন (ট্রিটমেন্ট) করে তা খুলনা শহরে সরবরাহের কথা। প্রকল্পটির কাজ ২০১৭ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফায় সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে জানা গেছে, নগরীর সোনাডাঙ্গা, গোবরচাকা, শেখপাড়া, বসুপাড়া, ফারাজিপাড়া, মির্জাপুর রোড, বাইতিপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, টুটপাড়া, বসুপাড়া, পশ্চিম বানিয়াখামার ও বাবু খান রোড এলাকায় পানির সমস্যা বেশি।

ভুক্তভোগীরা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই সব এলাকায় বাসা-বাড়িতে ওয়াসার সরবরাহ করা পানির সঙ্গে ময়লা আসছে, পানি প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; বিশেষ করে নগরীর মৌলভীপাড়া, টুটপাড়ার বাহাদুর লেন ও বানিয়াখামার এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে ওই পানি ব্যবহারে গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টিবি বাউন্ডারি রোড়ের বাসিন্দা কাওসার আহমেদ বলেন, কয়েক দিন ধরে তাদের বাড়িতে ওয়াসার পানিতে ময়লা আসছে। পানিতে দুর্গন্ধও রয়েছে। ফলে পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দুর্বিষহ হয়ে উঠছে তাদের নিত্যদিনের জীবন।

মিয়াপাড়ার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয়। বেশ কয়েক দিন ধরে পানি পাচ্ছি না। টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না। পানির চাহিদা মেটাতে পুরো পরিবারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন কাজ সারতে ভোগান্তি হচ্ছে।’

পানির সংকটে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়াসার কাজে সড়কে খোঁড়াখুঁড়িতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত হয়নি, আবার কাক্সিক্ষত সুপেয় পানিও সরবরাহ করতে পারেনি। ২০১৭ সাল থেকে ওয়াসা নতুন পাইপলাইনে পানি দেওয়ার কথা বললেও অনেক গ্রাহকের বাড়িতে এখনো সংযোগ পর্যন্ত দিতে পারেনি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘পুরনো পানির লাইন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ড্রেন ক্রস করে যাওয়ায় এক্সকেভেটর দিয়ে ময়লা পরিষ্কারের সময় অসচেতনতায় তা ফেটে যায়। এতে পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা আসতে পারে। তবে এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করতে ওয়াসার কর্মীরা কাজ করছেন। নতুন পাইপলাইনে পানি সরবরাহ করা হলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না।’

অন্যদিকে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওয়াসার পুরনো লাইনের সংযোগ শহরের অনেক স্থানে নেই। সেখানে ব্যক্তিগত নলকূপগুলোতেও পানি পাওয়া যায় না। ফলে নগরীতে পানির সংকট বেড়েছে। তবে ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ আগামী জুন মাসে শেষ হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত