ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, একজন কার্টুনিস্ট ও একজন লেখকের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। গতকাল সংগঠনটির তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ ও প্রমাণ ছাড়াই এই সব ধরপাকড়ের ঘটনা একই সঙ্গে উদ্বেগ ও আতঙ্কের।
সংগঠনের পক্ষে সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই আইনের সব মামলা প্রত্যাহার চেয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ছবি বিকৃত করা, গুজব ছড়ানো ও সরকারের সমালোচনার অভিযোগে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার সত্যতা ও গুরুত্ব বিবেচনা না করেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংসদ, জেলা প্রশাসন বা ক্ষমতাসীন কারও বিরুদ্ধে সামান্যতম সমালোচনার ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে এই সব পদক্ষেপ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশির ভাগ মামলার ক্ষেত্রেই এমন হয়েছে। অথচ সংসদ সদস্যরা বরাবরই স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, জনসাধারণের চিন্তা ও বাকস্বাধীনতার কথা বলে থাকেন।
সমাজের দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা সংবাদমাধ্যমের সহজাত দায়িত্ব। যেকোনো মহামারীর মতো দুর্যোগের কালে সরকার যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, তখন সেই বিষয়ের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করা গণমাধ্যমের আরও বড় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে নিখোঁজ আলোকচিত্রী শফিকুল ইসলাম কাজলকে ‘বেনাপোল থেকে আটক’ করার ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
প্রথম থেকেই এই আইনের বিরোধিতা করে আসা সংগঠনটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, আইনটিকে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের আটকের ঘটনা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যখন মহামারী মোকাবিলা করার কথা বলা হচ্ছে, তখন এই সব সংবাদমাধ্যমবিরুদ্ধ কর্মকান্ড তাতে কেবল প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করবে।
