প্রথম ধাপ শেষ। এবার দ্বিতীয় ধাপে ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি মর্ডানা।
বৃহস্পতিবার মর্ডানা জানিয়েছে, ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে দ্বিতীয় ধাপে আরও বড় পরিসরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দেয়ার অনুমতি পেয়েছেন তারা। সামনের কয়েক দিনের ভেতর এটি শুরু হবে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এই ধাপে কোম্পানিটি ৬০০ মানুষকে ট্রায়ালের আওতায় নেবে।
মর্ডানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিফেন ব্যানসেল জানান, আসন্ন দ্বিতীয় ধাপের গবেষণা বেশি জটিল।
যাদের শরীরে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে তারা সুস্থ থাকছেন কি না, সেটি দেখাই এই টেস্টের প্রধান উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় ধাপ সফল হলে তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হবে। তখন বোঝা যাবে, ভ্যাকসিনটি কতটা কার্যকরী।
আমেরিকায় ১২টির বেশি কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে সরকারিভাবে মর্ডানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
চীনে হিউম্যান ট্রায়ালে আছে চারটি কোম্পানি। এর মধ্যে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স গত এপ্রিলে দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করে।
একই সঙ্গে ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেক কোম্পানি যৌথভাবে আরেকটি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেছে।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তৈরি করেছে চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন। সেখানকার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।
এমন আলোচনার ভেতর ৪ মে ইতালি দাবি করে তারা কার্যকরী ভ্যাকসিন পেয়ে গেছে। রোমের স্পালানজানি হাসপাতালে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা হয়েছে বলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএসএ’র প্রতিবেদনে জানানো হয়।
সংবাদে বলা হয়েছে, টাকিজ নামের একটি ফার্ম থেকে ভ্যাকসিনটি তৈরি করা হয়েছে। গত মার্চে তারা ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির সিইও লুইজি আউরিসকিওর দাবি, ইঁদুরের ওপর গবেষণার পর ভ্যাকসিনটি দিয়ে তারা মানবদেহেও অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
অ্যান্টিবডি হল এমন একটি প্রতিরোধক প্রোটিন যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম (রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা) দ্বারা উৎপন্ন হয়।
করোনার মতো ক্ষতিকর কোনো ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে এই অ্যান্টিবডি তা শনাক্তের পর প্রতিরোধ করে।
মার্কিন কোম্পানি মর্ডানাও বলছে, তাদের ভ্যাকসিনে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে, সেটি করোনার স্পাইক প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। এই স্পাইক প্রোটিন দিয়ে নভেল করোনাভাইরাস ফুসফুস অকার্যকর করে দেয়।
